সরকার উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে

সরকার উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার তাদের পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আন্ডার ওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর বিজয়ী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তাদের এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক আন্ডার ওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর পাইওনিয়ার ক্লাসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসপি) ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘MIST MAVIROV’।

গত ২৩ থেকে ২৯শে জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮ দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের MIST MAVIROV দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। রানার আপ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তৃতীয় হয়েছে কানাডা।

উপ প্রেস সচিব বলেন, এমআইএসটি’র প্রতিনিধি দলটি তাদের উদ্ভাবনী আন্ডার ওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করে। রোবটের নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান। জানতে চান তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু করার আগ্রহের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন।

রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এমআইএসপি যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।
তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার তাদের পাশে থাকবে। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসসহ নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

সরকারপ্রধান বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশে এসে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রি জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ও উদ্ভাবনী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু নিয়ে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রেস উইং জানায়, ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এই বৈঠকে। এ ছাড়া আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

নৌপথ সচল করার পাশাপাশি কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেন, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন