আগামী নভেম্বর ঢাকায় বসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল। এরিমধ্যে টুর্নামেন্টের ড্র-ও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের লক্ষ্যও একটাই, ২৩ বছর ধরে অধরা থাকা সাফের ট্রফি আবারো ঘরে তোলা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্যের কোচ টমাস ডুলি। শুক্রবার ভুটানের থিম্পুতে হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের ড্র। সেখানে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী হয়েছে স্বাগতিক ভুটান ও শ্রীলঙ্কা।
অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। ড্রয়ের পর অন্তত কাগজ-কলমে তুলনামূলক সহজ গ্রুপেই পড়েছে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি সেটা মানতে নারাজ। গ্রুপিং নিয়ে এই কোচ বলেন, ‘জীবনে কোন কিছুই সহজ নয়। শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের বিপক্ষে খেলাও সহজ হবে না।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ সবশেষ খেলেছে ছয় বছর আগে। ১৭ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই পেয়েছে জয়। শ্রীলঙ্কার বর্তমান দলটি অন্য রকম। বাংলাদেশের মতো তারা ডানা মেলার চেষ্টা করছে প্রবাসীদের ওপর ভর করে। গত এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল চায়নিজ তাইপেকে দুবার হারিয়েছে তারা।
তাই বাংলাদেশকে অতীত পরিসংখ্যান ভুলেই নামতে হবে। ভুটানের ক্ষেত্রে অবশ্য অতীতের দুঃস্মৃতি তাড়া করবে বারবার। তাদের বিপক্ষে ১৭ ম্যাচ খেলে দুবার অঘটনের শিকার হতে হয় বাংলাদেশের। যদিও গত বছর ঘরের মাঠে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছেন হামজা-জামালরা। বাংলাদেশের গ্রুপে নেপালেরও যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে আছে নেপাল। ফলে তাদের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে নেপালও এবারের সাফে খেলতে পারবে। সে ক্ষেত্রে তাদের রাখা হবে বাংলাদেশের গ্রুপেই। ‘এ’ গ্রুপে তখন চারটি দল হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচসংখ্যাও বেড়ে যাবে। সাফের আগে অন্তত চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।
কিরগিজস্তানের কাছে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার আমন্ত্রণ পেলেও তাতে বাদ সেধেছেন কোচ ডুলি। বড় দলের বিপক্ষে খেলে আত্মবিশ্বাস হারাতে চান না তিনি। তাই কিরগিজস্তানে খেলা অনিশ্চিত। এবারের সাফে থাকছে না কোনো অতিথি দল। তিন বছর আগে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত ও লেবাননকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দুই দলই সেবার সেমিফাইনালে উঠেছিল, এমনকি কুয়েত খেলেছিল ফাইনালও। তবে এবার সাফ কর্তৃপক্ষ প্রতিযোগিতাকে আবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। ১৭ নভেম্বর হবে ফাইনাল।
দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশ আবারও আয়োজকের ভূমিকায় ফিরছে। এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৬ সালেও ঢাকায় হয়েছিল সাফ। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠেই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত মাত্র একবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর আর কখনো ট্রফি হাতে তোলা হয়নি। হামজা-শমিতদের নিয়ে এবার আবরও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ডুলি। তবে সেই পথটা কঠিন জানিয়ে তিনি বলেন,‘ আমাদের প্রথম টার্গেট গ্রুপ পর্ব। আমরা আপতত সেটা নিয়েই ভাবছি। কারণ ভালো খেলেই শ্রীলঙ্কা, ভুটানকে হারাতে হবে। তারপর সেমিফাইনাল ফাইনাল নিয়ে ভাববো।’
