চলতি মাসের মধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশন গঠিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, কমিশন গঠনের পর দুদককে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করবেন। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
সাইদুর রহমান খান বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই দুদকের নতুন কমিশন গঠিত হবে বলে আশা করছি। কমিশন গঠনের পর সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক তার দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে পালন করবে। তিনি বলেন, দুদককে আরও গতিশীল করতে কাজ করবো। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়াতে এবং যেকোনো ধরনের ইমেজ সংকট কাটিয়ে উঠতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
নতুন সচিবের মতে, দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে অগ্রাধিকার। কমিশন গঠনের পর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চলমান কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে কাজ করে বলে দীর্ঘদিনের যে অভিযোগ রয়েছে, সেই ধারা থেকে সংস্থাটিকে বের করে আনার আশ্বাস দিয়ে নতুন সচিব বলেন, সংস্থাটির কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে তারা একটি ‘রূপান্তরের মিশন’ নিয়ে কাজ করবেন। দুদক অতীতের ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ‘সত্যিকার অর্থে’ যেভাবে কাজ করা প্রয়োজন, সেভাবে কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। কমিশন না থাকায় সংস্থাটির অনেক কাজ জমে গেছে জানিয়ে নতুন কমিশন আসার আগেই প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করার কথাও বলেন সাইদুর রহমান খান। জমে থাকা কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে একটি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এদিকে, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে কমিশনের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছেনি। একইসঙ্গে এ বিষয়ে দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, আন্তঃদেশীয় আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে দুদক সরাসরি বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। কমিশন প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়, সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে তা পাঠানো হয়। এ ধরনের প্রক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
দুদকের কোনো অবহেলা ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং যা যা পাঠানো দরকার ছিল, তা যথাসময়ে পাঠানো হয়েছে। বেনজীরকে কী কারণে মুক্তি দেয়া হয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) অনুরোধ দুদক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে তা পৌঁছে দেয়া হয়।
এর আগে গত ৩০শে জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সাইদুর রহমান খানকে দুদকের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
