চীনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জোটে যুক্ত হওয়ার পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। সাংহাইভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও)-এর পর্যবেক্ষক (অবজারভার) হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। এমন এক সময় এ ঘোষণা এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে নিজেদের প্রযুক্তিভিত্তিক বৈশ্বিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে এআই কূটনীতিতে বাংলাদেশকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সমান্তরাল আগ্রহই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ডব্লিউএআইসিওতে বাংলাদেশের পর্যবেক্ষক হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আইটি খাতে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানালে সার্জিও গর বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আগামী সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরেরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
একই দিনে চীনের এআই জোটে পর্যবেক্ষক হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও প্যাক্স সিলিকায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার আলোচনা ঢাকার প্রযুক্তি কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগ চালু করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটন এটিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, চীনের নেতৃত্বে গঠিত ডব্লিউএআইসিও প্রতিষ্ঠিত হয় চলতি বছরের ১৬ জুলাই। সাংহাইভিত্তিক এই আন্তঃসরকারি সংস্থার সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশ যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক এআই সহযোগিতা জোরদার, বৈশ্বিক ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য উন্মুক্ত, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্য। পাশাপাশি মানবকল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এআই-সংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কাজ করবে সংস্থাটি।
গত মাসে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্স) এবং বৈশ্বিক এআই সুশাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তত ১০০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেন। সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের এক বৈঠকেই ২৯টি দেশকে নিয়ে ডব্লিউএআইসিও গঠনের ঘোষণা দেয় চীন। প্রাথমিক সদস্যদের মধ্যে চীনের পাশাপাশি রাশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেনেগালসহ গ্লোবাল সাউথের বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে।

Abdul Matin Sikder
৫৪ মিনিট আগেচায়নার প্রযুক্তি ছাড়া বাংলাদেশকে রক্ষা করা যাবেনা, মার্কিন প্রযুক্তির সাথে মিশে আছে ইন্ডিয়া। মার্কিনীরা ভারতের পরামর্শ ছাড়া বাংলাদেশকে নিয়ে কিছুই করেনা, আমরা ১৭+ বছর দেখেছি মার্কিন ছত্রছায়ায় ভারতের দখলদারিত্ব। আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে, দেশ ও জনগনকে বাঁচাইতে চাইলে চায়নাকেই আগে দরকার। বাংলাদেশের বিচক্ষন ও বুদ্ধিমান প্রধানমন্ত্রী বুঝে শুনেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে আমরা মনে করতেছি, উনার প্রতি দোয়া রইলো, উনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।