‘যুদ্ধের আগুনে পোড়ানোর’ চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

‘যুদ্ধের আগুনে পোড়ানোর’ চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

ফন্ট সাইজ:

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় কঠোর প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তেল শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। এই খবরের পরই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তারা সতর্ক করে বলে এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ভয়াবহভাবে ছড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

আঞ্চলিক মিত্রদেরকে সতর্কবার্তা: ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি শনিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আঞ্চলিক যুদ্ধ উস্কে দেওয়ার জন্য দায়ী করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের সম্পদ ও ভূখণ্ডকে নিজেদের স্বার্থে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিনিরা। মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যে দেশই আক্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে, তাদেরকেই এই ‘যুদ্ধের আগুনে পুড়তে’ হবে। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সম্ভাব্য দুঃসাহসের’ জবাবে তাদের এবং ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে জোরালো আঘাত হানার জন্য ইরানি বাহিনী প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

যুদ্ধে যোগ দিবে ইসরাইল, অস্ত্র মজুতে টান যুক্তরাষ্ট্রের: ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি এক নিরাপত্তা সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ইরানের জ্বালানি খাতে আঘাত হানতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে কিছু জটিলতার কারণে এখনো চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেয়নি। কারণ, এর ফলে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে দিয়ে একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে যুদ্ধ চললেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলেও একটি মার্কিন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী সংঘাত: এদিকে গত কয়েকদিনে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ইরানি ড্রোনের জবাবে কুয়েত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। ওমান উপকূলে জ্বালানিবাহী একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে ইরান। এর পাশাপাশি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে সৌদি তেল অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।

কূটনীতির পথ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘদর জানান, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা ও অবরোধ বহাল রাখলে হরমুজ প্রণালির সংকট আরও ঘনীভূত হবে এবং এর চড়া মাশুল দিতে হবে মার্কিন ভোটারদের। অবশ্য এর মধ্যেই পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সাথে প্রাথমিক বার্তা আদান-প্রদান চলছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বৈঠকে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনার মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি। তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী হয়েছি। আমাদের এই বিজয়কে ধরে রাখতে হবে। এই বিজয়কে স্থায়ী রূপ দিতে হবে। রাজধানী তেহরানের রাস্তায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার বার্তা সংবলিত বড় বড় পোস্টার ঝুলানো হলেও, পর্দার আড়ালে কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন