বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর

সহযোগীদের খবর

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো
দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ পর্যায়ে। আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে তার আগে প্রতিটি পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ গত ১২ মে শেষ হয়েছে। চলমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এতে উৎপন্ন তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘোরানোর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় ৩৩তম দেশ হবে বাংলাদেশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি।

অবশ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে রূপপুর কর্তৃপক্ষের। যদিও ৫ মাসে এটি সম্ভব না-ও হতে পারে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, প্রথম ধাপে ২ হাজার ৪৬টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০টি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও ১৮টি পরীক্ষা বাকি আছে। এসব পরীক্ষা বেশ জটিল। প্রতিটি ধাপে যাচাই করে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়ও চলবে নানা পরীক্ষা। টানা ৭-৮ মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। সব পরীক্ষা শেষ করে আগামী বছর একটি ইউনিট থেকে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ধাপ সংবেদনশীল, জটিল ও নিরাপত্তানির্ভর। প্রতিটি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়। প্রয়োজন হলে সংশোধন করে পরবর্তী ধাপে এগোনো হয়। তাই আগে থেকে নির্দিষ্ট করে উৎপাদনের সময় বলা কঠিন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব তথ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। তারা পর্যালোচনা করছে। তাদের অনুমোদন পেলে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। কমিশনের অধীনে পরিচালনার কাজটি করছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)। পাবনার রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানির দাম

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি দিতে হবে। জ্বালানি বর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানিতেও ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকে। তাই বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে এটি রাশিয়া নিয়ে যাবে। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাটির ৪০০ মিটার নিচে পুঁতে রাখবে তারা। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির বর্জ্য নিতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট মস্কোতে। এ চুক্তি অনুসারে বর্জ্য নেওয়া নিয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

তবে এটি নেওয়ার বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা বলেন, বর্জ্য বের করার পর সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো যায় না। এটি নিরাপদে রেখে শীতল করতে হয়। চাইলে ১০ বছর পর্যন্ত রূপপুরে এটি নিরাপদে রাখা যাবে। তাই নেওয়ার আগে জাহাজ ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ হিসাব করে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এটি আগাম করা হলে ভুল হতে পারে; বরং রাশিয়া লাভবান হবে, তাই সময় নেওয়া হচ্ছে।

রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ার কোম্পানি টিভিএল। প্রথম তিন বছরের জ্বালানি নির্মাণ চুক্তির মধ্যে ধরা আছে, যা থেকে প্রথম ধাপের জ্বালানি দেশে আসে। এটি শেষ হলে চুক্তি অনুসারে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করবে টিভিএল।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্র বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পুরো মেয়াদে জ্বালানি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে টিভিএলের। তবে বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো সময় চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে পারবে। চুক্তিতে জ্বালানির দাম নির্দিষ্ট করা নেই, তবে একটি সূত্র দেওয়া আছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জার্নালে পারমাণবিক জ্বালানির দাম নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। ওই দাম ধরেই সূত্র অনুসারে জ্বালানির দাম নির্ধারিত হবে। এর আগে ২০০৭ সালে পারমাণবিক জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে যায়। এমন কোনো পরিস্থিতি হলেও যাতে দাম অস্বাভাবিক না বাড়ে, তাই চুক্তিতে দামের একটি উচ্চসীমা বেঁধে দেওয়া আছে।

বেড়েছে খরচ, চূড়ান্ত হয়নি বিদ্যুতের দাম

২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে একটি আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোটের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জেনারেল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর করা হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ। সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে একটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে গত বছরের ২০ জুন। গত জানুয়ারিতে আরও ৬ মাস বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ব্যাহত হয়েছে। আর্থিক লেনদেনে জটিলতা, যন্ত্রপাতি দেশে আনা, বিশেষজ্ঞদের আসায় জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ডলার-সংকটে বিল পরিশোধের বিলম্ব-সব মিলিয়ে কাজ পিছিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি।

রূপপুরে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পর এটি চূড়ান্ত করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করা হবে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ খরচ বেশি হলেও জ্বালানির দাম কম হবে। দেশের অন্যান্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের চেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুতের দাম বেশি হবে না।

তাড়াহুড়ায় ভুল হতে পারে

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিরাপদে গ্রিডে সংযুক্ত করতে একটি রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ২০১৬ সালে একটি সমন্বিত গ্রিড ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা চালায় পাওয়ার গ্রিড পিএলসি। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সব ধাপ এগোনো হয়েছে।

এ বিষয়ে পাওয়ার গ্রিডের ব্যবস্থাপনার পরিচালক আবদুর রশিদ খান প্রথম আলোকে বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে গ্রিড পুরোপুরি তৈরি আছে।

তবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পাওয়ার গ্রিড সূত্র বলছে, স্পিনিং রিজার্ভ নিয়ে কিছুটা সমস্যা আছে। স্পিনিং রিজার্ভ হলো একটি অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও সব সময় তৈরি থাকে। কোনো কারণে রূপপুর থেকে উৎপাদন বন্ধ হলে ওই কেন্দ্রগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে। গ্রিডের ঘাটতি পূরণ করে তা টিকিয়ে রাখবে, না হলে গ্রিড বিপর্যয়ের শঙ্কা আছে। গ্যাসের সংকটের কারণে এই স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করতে পারছে না পিডিবি।
পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু হোক। প্রথমে খুবই কম হারে উৎপাদন করবে। তাই স্পিনিং রিজার্ভ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা ভাবছে রূপপুর কর্তৃপক্ষ। এতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যুক্ত থাকতে পারেন। এর আগে জ্বালানি প্রবেশ করানোর সময় তাদের কেউ যুক্ত ছিলেন না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময়ও যুক্ত থাকলে ভালো হতো। সরকারপ্রধান উপস্থিত থাকলে দায়বদ্ধতা বাড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উৎপাদনের সময় নির্দিষ্ট করে আগাম বলার সুযোগ নেই। এখন প্রতিটি মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি। তারা যখন সক্ষমতার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেবে, তখন থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। কোনো একটা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে আবার এটি পিছিয়ে যেতে পারে। এখন সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও জটিল সময়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ত্রুটিবিচ্যুতি নিবিড়ভাবে যাচাই করতে হবে। দেরি যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন তাড়াহুড়া করার সুযোগ নেই। এতে ভুল হতে পারে।

দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বাংলাদেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসা পেতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘বন্ড’ বা জামানত নেওয়ার কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যু করার শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তারা বন্ডের এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। নতুন নিয়মটি বি-১ (ব্যবসা) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এ নীতি নেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের মাধ্যমে নতুন এই বিধিমালা কার্যকর হবে। এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, কম্বোডিয়া, জর্জিয়া, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের নাম রয়েছে।

আজকের পত্রিকা

আজকের পত্রিকার শিরোনাম ‘আইসিইউতে জীবাণুর ৮৯ % এখন বহু ওষুধ - প্রতিরোধী​’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংকটাপন্ন রোগীর জীবন বাঁচাতে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ইউনিট। তবে এই সংবেদনশীল ইউনিটই এখন অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর সবচেয়ে বড় বিস্তারকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, দেশের হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে শনাক্ত হওয়া জীবাণুর ৮৯ শতাংশই বহু ওষুধ-প্রতিরোধী (মাল্টি-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট বা এমডিআর)। অর্থাৎ এসব জীবাণুর বিরুদ্ধে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারিয়েছে।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বিষয়ে দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় নজরদারি কার্যক্রম ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সার্ভেইল্যান্স বাংলাদেশ ২০২৫’ প্রতিবেদনে ওপরের তথ্য উঠে এসেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালিত এই নজরদারি জরিপের আওতায় দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত নমুনা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিইউ থেকে শনাক্ত জীবাণুর ৮৯ শতাংশই বহু ওষুধ-প্রতিরোধী বা এমডিআর। একই সঙ্গে এরপর পৃষ্ঠা ২ কলাম ৪১ শতাংশ জীবাণুকে সন্দেহভাজন প্যান-ড্রাগ-প্রতিরোধী (পিডিআর) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে এবং গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসা জটিলতর হয়ে উঠছে।

সমকাল

সমকালের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বোমা নিয়ে আতঙ্ক, সারাদেশে সতর্কতা জারি পুলিশের​’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা ছিল ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি)। শুক্রবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় ‘প্রেশার কুকার’সদৃশ বোমা পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, এটিতে রিমোট কন্ট্রোল যুক্ত ছিল।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। বোমাটির সঙ্গে টাইমার যুক্ত ছিল। এটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে রাখা ছিল।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সূত্র বলছে, মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনায় উদ্ধার বোমা আইইডি ছিল। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চলছে। জনবহুল এলাকায় বোমা কারা রেখেছে, এর উৎস ও পেছনে কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আজ শনিবার রাজধানীর ফার্মগেট ও মিরপুর ১০-এ মেট্রোরেল স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়ার খবরে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বস্তু দুটি বোমা নয়। বস্তার মধ্যে পান, সুপারি, জর্দার কৌটা ও আবর্জনা ছিল।

বণিক বার্তা

বণিক বার্তার শিরোনাম ‘ইন্টারনেটে অন্যতম ধীরগতির দেশ বাংলাদেশ, মোবাইলে ৯১ ও ব্রডব্যান্ডে ৯৩তম’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অনেক দেশ গিগাবিট গতির ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুললেও বাংলাদেশ এখনো ধীরগতির ইন্টারনেট ও দুর্বল ডিজিটাল অবকাঠামোর চ্যালেঞ্জে রয়েছে। দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলেও ৪৭ শতাংশ মানুষ এখনো ইন্টারনেটের বাইরে। মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতেও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে বেশ পিছিয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল ইন্টারনেট সেবা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, রফতানি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি ডিজিটাল সেবার উন্নয়নে বাধা তৈরি করছে। একই সঙ্গে সরকারের ক্যাশলেস সমাজ গড়ার লক্ষ্যও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তাদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও রূপান্তর প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে বলেছে, নেটওয়ার্ক দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছলেও উচ্চমূল্যের ডিভাইস, ডেটা প্যাকেজ ও ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীর আওতায় পৌঁছলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করত মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ।

নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সঙ্কট’। প্রতিবেদনে বলা, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গত দুই বছরে নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাখাইন রাজ্যের বড় অংশে সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সীমান্তজুড়ে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি পাওয়া একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরাকান আর্মি শুধু একটি বিদ্রোহী সংগঠন নয়; এটি ধীরে ধীরে একটি আন্তর্জাতিক মাদক-নির্ভর অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন ইয়াবার অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হয়েছে এবং সংগঠনটি সীমান্ত, সমুদ্রপথ ও পাহাড়ি অঞ্চল ব্যবহার করে একটি সুসংগঠিত সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে এসব দাবির কিছু কিছু অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে নেই।

কালের কণ্ঠ

কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের বার্তা- বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য অনুকূল​’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। সাক্ষাতে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে। এর ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য অনুকূল।’
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অত্যন্ত উষ্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন