তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপের বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করলো ফিফা

তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপের বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করলো ফিফা

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব জুড়ে ফুটবল সংস্থা ও রাজনৈতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সত্তা বিক্রির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ফিফা। গত মঙ্গলবার ঘোষিত এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনাটি মাত্র কয়েকদিনের মাথায় চরম বিরোধিতার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলো। গতকাল ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজেই এই পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা করে ফিফা। ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য ছিল। বিনিময়ে সদস্যদেশগুলোকে এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রলোভন দেখানো হলেও বিশ্ব ফুটবল মহলে এটি তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব বহাল থাকলে তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তীতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল) এবং উত্তর, মধ্য ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সংস্থাও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইনফান্তিনোকে ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। ফিফার অন্দরে তৈরি হওয়া এই গভীর বিভাজনের জেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।

বিবৃতিতে ফিফা প্রধান বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না। ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে।’

স্বাগত জানিয়ে ফিফাকে সতর্ক করলো এএফসি

ফিফার এই পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। তবে ভবিষ্যতের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা। এএফসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবলে প্রভাব ফেলতে পারে- এমন যেকোনো উদ্যোগ ভবিষ্যতে যেন সময়মতো, স্বচ্ছ ও কার্যকর উপায়ে কনফেডারেশন ও অংশীদারদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ সব সময় যথাযথ আলোচনা এবং ফুটবলের বিদ্যমান কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই গড়ে তোলা উচিত।’ এর আগে সদস্য সংস্থাগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে শেখ সালমান ফিফার এ প্রস্তাব উত্থাপনের পদ্ধতিকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন। গত মঙ্গলবার প্রস্তাবটি সামনে আসার পরই বিভিন্ন আঞ্চলিক কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে ফিফা। এএফসিসহ কনফেডারেশনগুলোর অভিযোগ ছিল, পরিকল্পনাটি ঘোষণার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরণের আলোচনা করা হয়নি এবং এ বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছুই জানতো না।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই দ্রুত পিছু হটা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তীব্র চাপে থাকা ইনফান্তিনো এখন সব পক্ষকে নিয়ে নতুন করে ঐক্যের জোর দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ঘটনা ফিফার অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং বাণিজ্যিক নীতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থাটি আগামী দিনে আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আস্থার সংকট কাটিয়ে কীভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন