আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘এনসিপির এক বছর: প্রথম বছরেই ঝরে পড়েছেন চল্লিশের বেশি নেতা’। খবরে বলা হয়, যাত্রা শুরুর এক বছর পুরো না হতেই তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বিদায় নিয়েছেন চল্লিশের বেশি কেন্দ্রীয় নেতা। এঁদের মধ্যে কেউ করেছেন পদত্যাগ, কেউ হয়েছেন বহিষ্কার। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে তৃণমূলের কমিটিও যদি হিসাব করা হয়, তবে পদত্যাগ ও বহিষ্কারের সংখ্যা হবে শতাধিক। অন্যদিকে অর্জনের মধ্যে আছে প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই ছয় এমপি পাওয়া।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে পদত্যাগের বড় কারণ হিসেবে জুলাই আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের একাংশের মধ্যে হতাশা বা মোহমুক্তি এবং মতান্তরের কথা উল্লেখ করে থাকেন। তবে নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির অন্য শীর্ষ নেতারা একে একটি ‘রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ হিসেবেই দেখতে চান।
বিরাজমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টে দিয়ে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। সে হিসেবে দলটির এক বছর পূর্ণ হলো আজ।
২১৭ থেকে নেমে ১৭২ জনআত্মপ্রকাশের ঘোষণার সময় নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরদিন ২১৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা প্রকাশ করে এনসিপি। সেই তালিকার অনেকে এখন দলে নেই। এক বছরে ঠিক কত নেতা পদত্যাগ করেছেন, আর কতজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত দলের কেউ দিতে পারেননি। তবে এনসিপির ওয়েবসাইটের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন ১৭২ জন। সে হিসাবে এক বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অন্তত ৪৫ নেতা ঝরে পড়েছেন।
ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বলছে, বর্তমানে এনসিপিতে আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন ১৫ জন। সদস্যসচিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও যুগ্ম সদস্যসচিব আছেন ২৬ জন। মুখ্য সংগঠক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংগঠক পদমর্যাদায় রয়েছেন ৪৮ জন। মুখ্য সমন্বয়ক, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পর্যায়ে রয়েছেন ২১ জন। আর সদস্য রয়েছেন ৬২ জন।
পদত্যাগের মিছিল
এনসিপি আত্মপ্রকাশের পর গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে দল থেকে অনেক নেতা বিদায় নিয়েছেন। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ। তিনি খাগড়াছড়িতে সহিংসতার ঘটনায় দলের নীরব থাকার অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৩০ নভেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মুহাম্মদ রাকিব। তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও মন্ত্রীপাড়াকেন্দ্রিক রাজনীতি, আর্থিক কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগও করেন রাকিব। এ ছাড়াও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কয়েক নেতা দল ছেড়েছেন। তবে বিদায় জানানোর সবচেয়ে বড় মিছিলটা শুরু হয় গত বছর ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর। সে সময় একসঙ্গে দলের অন্তত ১৫ নেতা পদত্যাগ করেন।
কেউ অন্য দলে, কেউ নতুন প্ল্যাটফর্মে
এনসিপি থেকে বিদায় নেওয়া কেউ কেউ অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। কেউ আবার নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন।
মীর আরশাদুল হক এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। গত ডিসেম্বরে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনিই প্রথম কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পদত্যাগ করেন। গত ৭ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন আরশাদুল হক।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা আরিফ সোহেল এবং খান মুহাম্মদ মুরসালীন গণবিপ্লবী উদ্যোগ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন।
নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ) নামের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান, সাবেক উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ, সাবেক কালচারাল সেলের উপপ্রধান সৈয়দা নীলিমা দোলা।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা অন্তত তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা আরেকটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ডা. তাসনিম জারা। নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত না হলেও এনসিপির ওয়েবসাইট থেকে পদত্যাগকারীদের নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে। গতকাল বিকেলে ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের জায়গায় তাসনিম জারা, মুশফিক উস সালেহীনসহ পদত্যাগকারী কারও নাম নেই।
ডাকলেও ফিরতে চান না অনেকে
এনসিপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন, পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া অনেকের পদত্যাগপত্র অনুমোদন করা হয়নি। তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘নবীন দলের জন্য সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস স্বাভাবিক। কেউ কেউ রাজনৈতিক ভুল বোঝাবুঝির কারণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। কেউ ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম বছর ছিল কাঠামো দাঁড় করানোর সময়। এখন আমরা আরও সুসংগঠিতভাবে এগোতে চাই। যাঁরা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন, চাইলে তাঁরা ফিরতে পারেন।’
কিন্তু পদত্যাগকারী একাধিক নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, দলের নেতাদের অনেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাঁদের আর ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। দলে ফেরার ইচ্ছা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে পদত্যাগ করা যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘যখন পদত্যাগ করেছি, তখন যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্ন তুলেছিলাম, সেসব বিষয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিকচর্চা জোরদার হয়নি। স্বকীয় রাজনৈতিক ধারা গড়ার উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চোখে পড়েনি। পদত্যাগী ও ভিন্নমতধারীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ (ভাষ্য) ছড়ানোর চেষ্টা করছে দলের একটি অংশ। ফলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার মতো বাস্তব পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।’
পদত্যাগ করা কয়েক নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা এনসিপিতে আর না ফিরলেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন। এ বিষয়ে এনসিপির সাবেক পলিসি ও রিসার্চ লিড খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘দলে ফেরার ব্যাপারে কোনো আলোচনা চলছে না। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকব।’
সাধারণ সভায় করণীয় নিয়ে আলোচনা
এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির এক বছরের মেয়াদ আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে দলটি গতকাল সাধারণ সভা ডাকে। রাতে সভা শেষে দলীয় সূত্র জানান, সভায় সাংগঠনিক বিবিধ বিষয়ে আলোচনা হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষের পর নতুন কমিটি বা কাউন্সিল কবে হবে জানতে চাইলে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘অচিরেই আমরা কাউন্সিল ও পরবর্তী কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।’
এনসিপির নেতারা জানান, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশের কয়েক নেতা এনসিপিতে যুক্ত হবেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন, রাজনৈতিক রূপরেখাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পদত্যাগ-বহিষ্কার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া: নাহিদ
পদত্যাগ ও বহিষ্কারের মাধ্যমে এনসিপির এত নেতার বিদায়কে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেই মনে করেন দলের শীর্ষ নেতারা। এ বিষয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলে নেতাদের যুক্ত হওয়া, পদত্যাগ করা, বহিষ্কার—এগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমাদের দলের যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, প্রমাণ এসেছে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি, সে যত গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকুক না কেন। এটা নতুন দল, এখানে নানান জায়গা থেকে নানান মানুষ যুক্ত হয়েছেন, অনেকে অনেক অ্যাজেন্ডা নিয়ে হয়তো যুক্ত হয়েছেন, সেটা পরিশুদ্ধ হতে একটা সময়ের প্রয়োজন।’
দলত্যাগকারীদের বিষয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তের কারণে কয়েকজন দল থেকে সরে গেছেন। তখনই কয়েকজন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার কাজ শুরু করেছেন। বাকিদের জন্যও এনসিপির দরজা সব সময়ই খোলা।’
প্রথম আলো
‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঘিরে দীর্ঘ বিতর্ক’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, কবি মোহন রায়হানকে ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (কবিতা) দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দেশের সাহিত্য, শিল্প অঙ্গনসহ বিদগ্ধ মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি স্বশাসিত সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমির ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে এবারই প্রথম বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। গত বছরও ২০২৪ সালের পুরস্কার ঘোষণাকে ঘিরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় মুক্তিযুদ্ধ বিভাগে মোহাম্মদ হাননান এবং শিশুসাহিত্যে ফারুক নওয়াজের নাম ঘোষণা করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এ পুরস্কার নিয়ে নানামুখী বিতর্কের প্রতিবাদে কথাসাহিত্য বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত সেলিম মোরশেদ নিজের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারকে ঘিরে এমন কর্মকাণ্ডে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এর আগেও নির্বাহী পরিষদের একজন এবং পুরস্কার কমিটির একজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। তবু পুরস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে একাডেমির বিতর্ক থামেনি। কবি মোহন রায়হানের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সেই বাস্তবতাই আবারও সামনে এনেছে।
ঘোষণা করা সত্ত্বেও কবি মোহন রায়হানকে কেন পুরস্কার দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’ কোন ধরনের অভিযোগ মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে ছিল, এ প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।’
পুরস্কার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এ প্রশ্নে গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
সংবাদ সম্মেলন করতে চান মোহন রায়হান
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা বাংলা একাডেমি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে কবি মোহন রায়হান ভাবছেন না। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই পুরস্কার নেওয়ার আর প্রশ্নই আসে না। আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। আমি পুরস্কার চাইনি। একাডেমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমাকে মনোনীত করে দাপ্তরিক চিঠি দিয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত হয়েছি। অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আগের দিনও আমাকে একাডেমিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মহড়াও করানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে গেলে প্রথমে মহাপরিচালক জানান, “একটি দুঃসংবাদ আছে। বিশেষ কারণে আপনাকে এখন পুরস্কার দেওয়া যাচ্ছে না। আপনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলে ভালো হবে”।’
মোহন রায়হান বলেন, ‘তখন আমি বলেছি, পুরস্কার না দিলে দেবেন না। কিন্তু বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য হিসেবে আমি অনুষ্ঠানে থাকতে পারি। সেটা আমার অধিকার। পরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও বলেন, আমার উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু আমি তাঁদের জানাই, আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি অনুষ্ঠানে থাকতে চাই এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকি। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথমেই কবিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে আমার নাম ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় নাম থেকে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।’
মোহন রায়হান বলেন, ‘পুরস্কার প্রদান পর্ব শেষ হলে আমি অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে আসি। আমি বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে জাতির কাছে তুলে ধরার জন্য সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করেছি। হয়তো রোববার সংবাদ সম্মেলন করে জানাব নেপথ্যে কী ঘটনা ঘটেছিল।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘৩৫ আসনের বিপরীতে আলোচনায় শতাধিক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি সরকার গঠনের পর এখন সবার নজর সংরক্ষিত নারী আসনের দিকে। বহুলপ্রত্যাশিত এই আসনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে জোরালো হচ্ছে আলোচনা। সময় যত গড়াচ্ছে, প্রত্যাশা ততই বাড়ছে। বিএনপি নেত্রীদের প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। অনেকেই লবিং-তদবিরে ছুটছেন নেতাদের বাসায় বাসায়। আবার কেউ গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে সারা দিন ধরনা দিচ্ছেন। সচিবালয়ে মন্ত্রীদের কাছেও যাচ্ছেন অনেকে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি রাজপথে লড়াই, হামলা, মামলা আর দমন-পীড়নে নিজেদের ত্যাগের রাজনৈতিক স্বীকৃতি চাইছেন তারা।
যদিও সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বিএনপিতে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। ঈদের পর মনোনয়ন কার্যক্রম শুরুর আভাস মিলেছে। তবে এর আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলনে ভূমিকা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরছেন। কেউ কেউ যোগাযোগ রাখছেন নীতিনির্ধারণী মহলের সঙ্গে। আবার অনেকেই বলছেন, শুধু পরিচয়ের রাজনীতি নয়, মাঠের অবদানও বিবেচনায় আসুক।
পরিবারতন্ত্রের বাইরে থেকে উঠে আসা নেত্রীদের যোগ্যতা ও সংগ্রামের যথাযথ মূল্যায়ন হোক-এমনটাও বলছেন অনেকে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা-সবই হতে পারে মূল্যায়নের মানদণ্ড। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যথাযথ নিয়ম মেনেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য যুগান্তরকে জানান, প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। বিএনপিতে অসংখ্য যোগ্য নেত্রী রয়েছেন, যারা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারণ করবেন কারা সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ-সদস্য হবেন। তবে এবার তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত আসন পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। এদিকে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘বেতন-বোনাস নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শ্রমঘন শিল্পে বেতন ও উৎসব বোনাস পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প মালিক ও শ্রমিক নেতারা। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।
ঈদের আগে ৫০-৬০টি কারখানায় শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা : ঈদুল ফিতর সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতের ৫০ থেকে ৬০টি কারখানায় শ্রম অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
বকেয়া মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধে জটিলতা তৈরি হলে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। নতুন সরকারের জন্য তা যেন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে, সে বিষয়ে আগাম সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পোশাক শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়, যা অনেক সময় আন্দোলন বা কর্মবিরতিতে রূপ নেয়। এতে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার আশঙ্কা থাকে।
তাই সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় আগাম পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এদিকে ঈদপূর্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী মঙ্গলবার ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির (টিসিসি) বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোয় বিশেষ নজরদারি জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ঈদের আগেই বকেয়া মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ২০ রমজানের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।’
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সময় মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ এড়ানো সম্ভব হবে। ঈদ সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিও বজায় থাকবে।
নগদ প্রণোদনা ও সফট লোন চায় বিজিএমইএ : ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে সম্ভাব্য আর্থিক চাপ মোকাবেলায় স্বল্প সুদে ঋণ (সফট লোন) ও বকেয়া নগদ প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ বিষয়ে সংগঠনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক খান বাবলু ও সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিঠি হস্তান্তর করেন। পরে শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, খাতটির প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা এখনো বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে যাতে কারখানাগুলো সংকটে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত এই অর্থ ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ সহজ শর্তে সফট লোন চাওয়া হয়েছে। বিজিএমইএর হিসাবে খাতটির মাসিক বেতন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী দুই মাসে প্রয়োজন প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংগঠনটি জানিয়েছে, সব কারখানা সমান প্রণোদনা পায় না। বিশেষ করে ওভেন ও সোয়েটার কারখানাগুলো তুলনামূলক বেশি চাপের মুখে থাকবে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে এখনই যা করতে হবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুটি বাড়িয়ে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ উদযাপিত হতে পারে ঈদুল ফিতর। এর আগের দুই দিন সরকারি ছুটি। ১৭ মার্চ শবেকদরের ছুটি। মাঝে ১৮ মার্চ বন্ধ থাকলে ঈদের আগে চার দিন সময় মিলবে ধাপে ধাপে শহর ছাড়ার। তাতে ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে- এ চিন্তায় ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
ছুটি বাড়লেও ঈদযাত্রায় ভোগান্তির ভয় রয়েছে সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলার কারণে। অভ্যুত্থানের পর পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকায় সড়ক-মহাসড়কে চলতে শুরু করে ব্যাটারিচালিত লাখ লাখ রিকশা। এগুলো আর অপসারণ না হওয়ায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির ভয় রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার প্রবেশপথে সড়ক দখল, মহাসড়কের পাশে বাজার ও যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড, সেতুর টোলপ্লাজায় ধীরগতির কারণেও দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে ঈদযাত্রায়।
ছুটিই ভরসা
সড়ক পরিবহন, রেলপথ এবং নৌ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সমকালকে বলেন, সমস্যাগুলো নজরে রয়েছে। অনিবন্ধিত ও অবৈধ যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মহাসড়কের ওপর বাজারের জটলায় গাড়ি যাতে আটকে না যায়, সে জন্য দখল উচ্ছেদে পুলিশ কাজ করছে। ঈদের আগে ছুটি দুদিন। ১৮ মার্চ ছুটি দিলে চার দিন বন্ধ পাওয়া যাবে। তখন ঈদযাত্রা গত বছরের মতোই নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছি। তাই ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
গত বছর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় ৩১ মার্চ। এর আগে টানা চার দিন ছুটি ছিল। শিল্প কারখানাতেও ছুটি দেওয়া হয় ধাপে ধাপে। এতে সেবারের ঈদযাত্রা ছিল দুর্ভোগমুক্ত। তবে গত বছরেই ঈদুল আজহার আগে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঈদ হয়েছিল ৭ জুন। বাজেটের কারণে ছুটি শুরু হয় ৪ জুন অফিসের পর। মাত্র দুদিন সময় মেলায় ৫ ও ৬ জুন সারাদেশে মহাসড়কগুলো তীব্র যানজট ছিল। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের পথে যমুনা সেতু পার হতেই ১২-১৩ ঘণ্টা লেগেছিল।
ইত্তেফাক
‘শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ, বাড়ছে সেবার পরিধি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ৫শ’ শয্যার ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে যুক্ত করা হয়েছে আরো ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট নতুন একটি ভবন। নতুন ভবনটি চালু হলে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ১০০০-এ উন্নীত হবে। ডাক্তারসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া চূড়ান্ত হলে দ্রুত নতুন ভবনে কার্যক্রম চালু হবে বলে হাসপাতালটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সারাদেশ থেকে প্রতিদিন ঘটনা-দুর্ঘটনায় আহতরা চিকিত্সার জন্য যান নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যান। চিকিত্সকদের মতে প্রতিদিন যত রোগী আসে তার মধ্যে প্রতি পাঁচ মিনিটে একজন স্ট্রোকের রোগী থাকে। সারাদেশের মানুষের কাছে মস্তিষ্কজনিত রোগের চিকিত্সায় আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতালটি। পূর্ণাঙ্গ এক হাজার বেডের হাসপাতাল চালু হলে চিকিত্সা পেতে রোগীদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে। শয্যা পেতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষাও কমে যাবে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নতুন ৫শ’ শয্যার ভবনটি ১৫ তলাবিশিষ্ট। পুরাতন ভবনটি ১০ তলা। নতুন ভবনটি আগের ভবনটির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। উভয় ভবনে সহজে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন ভবনটি ভূগর্ভে তিন তলা এবং মাটির উপর ১২ তলা । ভবনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। নতুন ভবনটিতে মাথায় ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জন্য অপারেশনসহ সুচিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ৪টি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে, এর মধ্যে ২টি জার্মানির যন্ত্রপাতিসহ সেই দেশের ইঞ্জিনিয়াররা স্থাপন করেছেন। অপর ২টি দেশীয় ব্যবস্থাপনায় স্থাপন করা হয়। নতুন এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিনের প্রতিটির মূল্য কমপক্ষে ২৮ কোটি টাকা।
২/১টি বড় হাসপাতাল ছাড়া এই ধরনের যন্ত্রপাতি আর কোথাও নেই বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। অত্যাধুনিক এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিনে পরীক্ষায় বড়দের সময় লাগে মাত্র এক মিনিট। আর শিশুদের কয়েক সেকেন্ডে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে যায়। অপারেশন থিয়েটারে দেয়ালের সঙ্গে এমন যন্ত্র বসানো হয়েছে যে অপারেশন থিয়েটারে হাঁচি কাশি দিলে কিংবা অন্য কোন কারণে জীবাণু ঢুকলেও রোগী ও ডাক্তাররা শতভাগ নিরাপদে থাকবেন। ঐ জীবাণুকে মেশিন মুহূর্তে টেনে নিয়ে ধ্বংস করে দেবে। এছাড়া নতুন ভবনে থাকছে ১শ’ বেডের পোস্ট অপারেটিভ আইসিইউ।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সারের কাগুজে মজুদ বাস্তবে সঙ্কট’। খবরে বলা হয়, বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে মাঠে যখন চারা রোপণ আর সেচের কাজে কৃষকের ব্যস্ততা, তখনই নতুন দুশ্চিন্তা চেপে বসেছে তাদের কাঁধে। সরকারি হিসাবে গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে দেখা দিয়েছে সঙ্কট। কৃষি মন্ত্রণালয় কিংবা অধীনস্থ দফতরের সংশ্লিষ্টরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সার সঙ্কটের কথা স্বীকার করছেন না। আবার স্বীকার করলেও দাবি করছেন ‘কৃত্রিম সঙ্কট’। অথচ সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এক দিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্য দিকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিচ্ছে শঙ্কা।
গত প্রায় দুই বছর ধরে কৃষককে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা পর্যাপ্ত মজুদের তথ্য দিলেও নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না কৃষক। সারের অতিরিক্ত দামে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে নেই শক্তিশালী নজরদারি। উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিয়ে ডিলারদের ওপর দায় চাপিয়েই দায়িত্ব সারছে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী আমলের সার সিন্ডিকেট গত দেড় বছরে আরো বিস্তৃত হয়েছে। সিন্ডিকেটের ছায়া পড়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের সার বিভাগ কিংবা বিএডিসির কর্মকর্তাদেরও কেউ কেউ কলকাঠি নাড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, দেশের প্রায় ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে সোয়া দুই কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদিত হয়, যা সারা বছরের চাল সরবরাহের প্রধান ভরসা। বোরো পুরোপুরি বীজ, সার ও সেচনির্ভর। ফলে উপকরণের দাম বাড়লেই সরাসরি বাড়ে উৎপাদন ব্যয়। শুধু ধান নয়, এ সময় আলু, পেঁয়াজ, সরিষা ও বিভিন্ন সবজির উৎপাদনও চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে। তাই সারের বাজারে অস্থিরতা মানেই পুরো খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা।
কিন্তু সরকারি হিসাবে সারের কোনো সঙ্কট নেই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত মজুদ রয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ টন ইউরিয়া, তিন লাখ ২১ হাজার টন টিএসপি, পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিএপি এবং তিন লাখ ৩১ হাজার টন এমওপি। উপজেলা পর্যায়েও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন।
সরকার নির্ধারিত এক বস্তা ইউরিয়ার দাম এক হাজার ২৫০ টাকা হলেও কৃষককে গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৪৫০ থেকে এক হাজার ৪৬০ টাকা। ডিএপি ও টিএসপির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। কেজি হিসেবে ইউরিয়ার নির্ধারিত দাম ২৭ টাকা হলেও দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। টিএসপির নির্ধারিত ২৭ টাকার বিপরীতে তিন থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেয়া হচ্ছে। ২১ টাকার ডিএপি বিক্রি হচ্ছে সাত থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে। ২০ টাকার এমওপি কিনতে হচ্ছে তিন থেকে আট টাকা বেশি দিয়ে।
বণিক বার্তা
‘প্রশাসন সাজাতে বেগ পেতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তবে এসব দপ্তরে এখনো নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কার্যত দপ্তরপ্রধান ছাড়াই চলছে। এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগেও কয়েক মাস ধরে নেই দপ্তরপ্রধান। সে কারণে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও রদবদল কার্যক্রম পরিচালনায় তৈরি হয়েছে জটিলতা।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়ও দেখা দিয়েছে ধীরগতি।
সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বর্তমানে মোট ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ৭৯ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। সম্প্রতি চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল হওয়ায় বর্তমানে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৬-এ। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং স্বরাষ্ট্র সচিব পদে মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়। এখনো অন্তত ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক এ দপ্তরগুলো বর্তমানে নেতৃত্ব ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাদের রদবদল শুরু হয়েছে। তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য উপযুক্ত কর্মকর্তা বাছাই নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সচিব পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তাদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করা হলেও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে না। আবার যেসব কর্মকর্তার এসিআর ইতিবাচক, তাদের মধ্যেও পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকায় চূড়ান্ত বিবেচনায় আটকে যাচ্ছেন। ফলে সচিব নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।
প্রশাসন সাজানো কিংবা রদবদলের কার্যক্রম পরিচালিত হয় মূলত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগ থেকে। মন্ত্রণালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, এ অনুবিভাগটির নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার হয়ে থাকেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমল, অর্থাৎ গত বছরের অক্টোবর থেকেই উইংটি নেতৃত্বশূন্য। তবে জনপ্রশাসন সচিব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ অনুবিভাগটির কার্যক্রম সরাসরি দেখভাল করছেন বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
চলতি মাসের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের পথচলা শুরু। তার একদিন আগেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান ড. নাসিমুল গনি। আর সরকার গঠনের পরদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয় এবিএম আব্দুস সাত্তারকে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ (সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন) তিন সচিবকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তারা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সদ্য সাবেক সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সদ্য সাবেক সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
একই দিন নয় সচিবের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। তারা হলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান, এসএম আকমল হোসেন, কাইয়ুম আরা বেগম, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ। তাদের মধ্যে মো. সাইদুর রহমান ছাড়া বাকিরা জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
সরকারের এক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনপ্রশাসন যেভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল সেখানে সবাই ওই সরকারের অনুগত হতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বর্তমান কর্মকর্তাদের বড় অংশই ওই সরকারকে সার্ভ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার এসে প্রশাসনকে সে জায়গা থেকে বের করতে পারেনি। তারাও নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। এখন নতুন সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের জন্য সঠিক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে দায়িত্ব দেয়া। এরই মধ্যে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতাহারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সে অনুযায়ী কর্মকর্তা বাছাই করলে ভালো ফলাফল আসবে। না হলে সব আগের মতোই চলবে।’
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘শতকোটি টাকা খুইয়ে পুলিশ ফিরছে আগের পোশাকেই!’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে গত অন্তর্বর্তী সরকার নানা পদক্ষেপের মধ্যে এই বাহিনীর পোশাকও পরিবর্তন করেছিল। আগের পোশাকে পুলিশ জনগণের কাছে বিতর্কিত এই ধারণা থেকে মূলত সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলেও বিরোধিতা ছিল প্রবল। বিশেষ করে পোশাকের রঙ ও মান পছন্দ করা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। দুজন সাবেক উপদেষ্টা ও একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা (সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী) এবং পুলিশের ভেতরের এক ডজন কর্মকর্তার প্রায় একক সিদ্ধান্তেই পোশাক পরিবর্তনে বাধ্য হয় পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে এই পোশাক ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। নতুন এই পোশাকের পেছনে অন্তত শতকোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ওই সূত্রটি জানায়, এক ডজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নানা কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত। তারাই মূলত পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে পোশাক তৈরি করছে (কাপড় কেনাসহ)। আগের সরকার পরিবর্তন হলেও শেষ হয়ে যায়নি সিন্ডিকেটের তৎপরতা। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশে আবারও দাবি উঠেছে আগের পোশাকে ফিরে যেতে। এমনকি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে আগের পোশাকই পুলিশের ঐতিহ্য। এই বিবৃতির পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের হাইকমান্ডে আলোচনা হয়েছে।
এর পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরও আলাদাভাবে বিশেষ বৈঠক করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের পোশাকে ফিরে যেতে সরকারের হাইকমান্ড থেকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা এসেছে। বর্তমানে পুলিশ যে ধরনের পোশাক ব্যবহার করছে সেটি দেখলে মনে হচ্ছে বাসা অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড। এ নিয়ে পুলিশ কমকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যায় থেকেও অভিযোগ দিয়ে আসছে। অন্তর্বর্তী সরকার অনেকটা জোর করেই রুচিহীন রঙ ও নিম্নমানের কাপড়ে তৈরি পোশাক পুলিশকে ব্যবহার করতে বাধ্য করেছে।
তিনি আরও বলেন, পোশাক পরিবর্তনের জন্য গত সরকারের সাবেক দুজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা ও সাবেক একজন পুলিশ কর্মকর্তা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন) বেশি হস্তক্ষেপ করেছেন। তাছাড়া পুলিশের অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা পেছন থেকে বেশি কলকাঠি নেড়েছেন। তাদের মধ্য চারজন অবসরে চলে গেছেন। তারাই মূলত ঘুরেফিরে সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বিষয়টি আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করব।
পুলিশ সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, পুলিশ বাহিনী সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের নভেম্বরে বাহিনীটির পোশাক পরিবর্তন করে। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে লৌহ রঙের নতুন পোশাক প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু নতুন এ পোশাক নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাছাড়া এই পোশাকের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পোশাকেরও অনেকটাই মিল রয়েছে। অনেক বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের রক্ষীদের পোশাকের সঙ্গেও পুলিশ বাহিনীর নতুন পোশাকের সাদৃশ্য রয়েছে। এসব বিষয় ইতিমধ্যে নতুন সরকারের দায়িত্বশীলদের নজরে এসেছে। তারাও পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে আবার পুরনো ইউনিফর্মে ফিরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা নতুন ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পক্ষে। কারণ এই পোশাক পুলিশ বাহিনীকে ধারণ করে না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। আমরা কিন্তু এই ধরনের পোশাক চাইনি। আগের পোশাকেই থাকতে চেয়েছি। অনেকটা জোর করেই আমাদের নতুন পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়েছে।
