রোনালদোর প্রেমিকারা, অবশেষে বিয়ের সিদ্ধান্ত

রোনালদোর প্রেমিকারা, অবশেষে বিয়ের সিদ্ধান্ত

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ চলতি সপ্তাহান্তে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন। এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জর্জিনার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে ৪২ বছর বয়সী পর্তুগিজ সুপারস্টারের নাম জড়িয়েছিল শোবিজ জগতের একাধিক পরিচিত নারীর সঙ্গে। এক রাতের সম্পর্ক থেকে শুরু করে গোপন চুম্বন- রোনালদোর প্রেমজীবন নিয়ে বহু বছর ধরেই নানা আলোচনা। প্যারিস হিলটন, কিম কার্দাশিয়ান, বিপাশা বসু এবং রুশ সুপারমডেল ইরিনা শায়েকের মতো তারকাদের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।

তবে ২০১৬ সাল থেকে ৩২ বছর বয়সী মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গেই স্থায়ী সম্পর্কে রয়েছেন রোনালদো। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। বর্তমানে এই যুগলের পরিবারে রয়েছেন সাতজন সদস্য। তাদের সন্তানদের মধ্যে রয়েছে আলানা, বেলা, ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র এবং যমজ- মাতেও ও এভা মারিয়া। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা।

এতে আরও বলা হয়, গত বছরের আগস্টে জর্জিনা বিশাল আকৃতির হীরার আংটির ছবি প্রকাশ করে রোনালদোর সঙ্গে বাগদানের ঘোষণা দেন। এখন তাদের বিয়ের জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন একবার ফিরে দেখা যাক রোনালদোর আলোচিত প্রেমের সম্পর্কগুলোর দিকে।

ইমোজেন থমাস: ২০০৬ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলার সময় বিগ ব্রাদার তারকা ইমোজেন থমাসের সঙ্গে রোনালদোর পরিচয় হয়। সে সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। ২০১১ সালে আবারও তাদের সম্পর্ক নতুন করে শুরু হয় বলে গুঞ্জন ওঠে। তবে পরে উভয় পক্ষই তা অস্বীকার করেন।

রিটা পেরেইরা: রোনালদোর প্রথম দিকের আনুষ্ঠানিক প্রেমিকাদের একজন ছিলেন পর্তুগিজ অভিনেত্রী রিটা পেরেইরা। ২০০৬ সালে লিসবনে ছুটি কাটানোর সময় তাদের পরিচয় হয়। কয়েক মাসের সম্পর্কের পর রোনালদোর দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় সেই সম্পর্ক আর টেকেনি।

জেমা অ্যাটকিনসন: ২০০৭ সালে বৃটিশ অভিনেত্রী ও মডেল জেমা অ্যাটকিনসনের সঙ্গে রোনালদোর চার মাসের সম্পর্ক ছিল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একটি ম্যাচে তাদের পরিচয় হয়। জেমার দাবি, রোনালদো তাকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ এবং বৃটিশ সিটকম একসঙ্গে দেখার প্রস্তাব দিয়ে মুগ্ধ করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপরও দীর্ঘদিন এই সম্পর্ক ছিল সংবাদমাধ্যমের আলোচনায়।

বিপাশা বসু: ২০০৭ সালের শেষদিকে লিসবনের একটি নাইটক্লাবে রোনালদোকে বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। খবরে বলা হয়, বলিউড সিনেমার প্রতি রোনালদোর আগ্রহ থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং ওই ঘটনার পরও তারা যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

প্যারিস হিলটন: ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলেসে দুই রাত ধরে রোনালদো ও মার্কিন তারকা প্যারিস হিলটনকে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ডাগ রাইনহার্টের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরপরই এই সম্পর্কের গুঞ্জন ওঠে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই প্যারিস জানান, তারা কেবলই ‘ভালো বন্ধু’।

কিম কার্দাশিয়ান: ২০১০ সালে কিম কার্দাশিয়ান ও রোনালদোকে একসঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা গেলে তাদের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মাদ্রিদে কয়েক দিনের ছুটি কাটানো, রোনালদোর ভিলায় সময় কাটানো- এসব নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়। তবে খুব দ্রুতই দু’জন আলাদা পথে হাঁটেন।

ইরিনা শায়েক: রোনালদোর সবচেয়ে দীর্ঘ আলোচিত সম্পর্ক ছিল রুশ সুপারমডেল ইরিনা শায়েকের সঙ্গে। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর তারা সম্পর্কে ছিলেন। একটি ফ্যাশন প্রচারণার কাজে তাদের পরিচয় হয়। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও বিদেশ ভ্রমণে তাদের একসঙ্গে দেখা যেত। ২০১১ সালে ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে রোনালদো নিউইয়র্কে গিয়ে ইরিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তাদের বাগদানও হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি।

দেজিরে করদেরো: জর্জিনার আগে ২০১৬ সালে রোনালদোর সঙ্গে স্প্যানিশ মডেল দেজিরে করদেরোর সংক্ষিপ্ত সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হয়। মিস স্পেন ২০১৪ বিজয়ী দেজিরেকে রোনালদো নাকি ‘খ্যাতির লোভী’ বলে মনে করতেন। তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

এখন জর্জিনার সঙ্গে নতুন অধ্যায়: এসব ছেড়েছুড়ে বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, রোনালদো ও জর্জিনা পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের ঐতিহাসিক কিন্তা দা রেগালেইরা প্রাসাদে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। যদিও এখনো তাদের বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এরই মধ্যে এই জুটিকে স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপে বিলাসবহুল পারিবারিক অবকাশযাপন উপভোগ করতে দেখা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন