বিএনপি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে বেঈমানি করছে: গোলাম পরোয়ার

বিএনপি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে বেঈমানি করছে: গোলাম পরোয়ার

ফন্ট সাইজ:

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরোয়ার বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে পিছিয়ে এসে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে বেঈমানি করছে। এই বেঈমানির পরিণাম শুভ হবে না। যতদিন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হবে ততদিন সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। এই গণরায়কে বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংসদে ও সংসদের বাইরে আন্দোলন করে যাবো। সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে। আর তা না করলে গণভোটে যারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে রায় দিয়েছিল সেই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে গণ-আন্দোলন শুরু করা হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে স্থানীয় বিডি হলে গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন- জামায়াতের খুলনা বিভাগের যশোর-কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক সম্পাদক মোবারক হোসেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, মাওলানা আজিজুর রহমান এমপি, এড. এনামুল হক এমপি, মোক্তার আলী এমপি, এলডিপি’র যশোর জেলা সম্পাদক খালেকুজ্জামান রিপন, এনসিপি জেলা সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, এবি পার্টির জেলা সভাপতি ইয়ামিনুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তৃতা করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরোয়ার আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিবাদ। আন্দোলনকারীরা চেয়েছিল একটি নতুন বন্দোবস্ত একটি নতুন বাংলাদেশ। আর সে কারণে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার কাটাছেঁড়া সংবিধানের সংস্কার ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। আমরা চাই সংবিধানের কোনো সাধারণ সংশোধন নয়, বরং সংবিধানের আমূল সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

তার জন্য প্রয়োজনে আমরা সংসদ ও সংসদের বাইরে রাজপথকে বেছে নিতে বাধ্য হবো। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ছড়ি ঘোরালে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না। গণভোটে জনগণের সরাসরি রায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “কনসেপচুয়ালি ধারণাগতভাবে আমরা কোনো সংশোধন মানি না, আমরা সংবিধানের আমূল সংস্কার চাই। আপনারা ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক ডাকেন নাই, সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করেছেন। পার্লামেন্টে এসে বলুন-‘আমরা সংবিধান সংস্কারের ট্রেন মিস করেছি, আসুন উভয়পক্ষ মিলে সংস্কারের জন্য একটি কমিটি করি।’ তা না করে যদি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটেন, তবে তার পরিণাম ভালো হবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গণভোটে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের সুযোগ নেই, এটি জনগণের সরাসরি রায় । তিনি বলেন, “ভোটাররা সরাসরি ৮৪টি প্রশ্নে ভোট দিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলেছে। আর এমপিদের ক্ষমতা হলো ডেলিগেটেড পাওয়ার। তাই সামান্য কিছু ছোটখাটো কারেকশন দিয়ে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়; ছয়টি কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী আমূল পরিবর্তনই জনগণের প্রত্যাশা।”

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “পাঁচ মাস পার হলেও দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নিজেও সত্য কথা বলেছেন যে, পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হবে কীভাবে? সর্বত্র দলীয়করণ বাসা বেঁধেছে! জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা থেকে শুরু করে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, টিআর, কাবিখা এমনকি ইমামদের ভাতাতেও দলীয় লোক বসানো হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমান চরিত্রের কোনো পার্থক্য রইলো না, কেবল নামটাই বদলেছে।” তিনি ঘোষণা দেন, “যদি সংসদে জনগণের এই রায় মেনে না নেয়া হয়, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং গণভোটের রায় পুনরায় প্রয়োগ করা হবে। ফ্যাসিবাদের পথ ছেড়ে দলীয়করণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে ১১ দলের ঘোষিত সকল কর্মসূচি সফল করতে আমি যশোরের সংগ্রামী জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন