হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর বাজার, নতুন ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তারদের রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লেখার কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ওষুধ বিক্রেতা ও অনুমোদনহীন চিকিৎসক রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় অধিক মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু বা সুপারবাগ’ তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। এদিকে চিকিৎসকের চেম্বার থেকে রোগী বের হওয়ার পরপরই কয়েকজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, অনেক সময় তাদের অনুমতি ছাড়াই প্রেসক্রিপশনের ছবি সংগ্রহ করা হয়।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ওষুধ বেশি লিখিয়ে নিতে চিকিৎসকদের বিভিন্ন ধরনের অফার ও উপহার দিয়ে থাকেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানসম্মত ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও শোনা যায়। স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা জানান, একটি প্রেসক্রিপশনে রোগীর ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য, রোগের বিবরণ, চিকিৎসা নির্দেশনা এবং অনেক সময় পারিবারিক তথ্যও উল্লেখ থাকে।
অথচ এসবের তোয়াক্কা না করেই প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ও যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়, যা রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শামিল। অন্যদিকে পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তারদের ওষুধ লেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই তা মানছেন না। এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জের একাধিক চিকিৎসক জানান, রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি অনুমতি ছাড়া তোলা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার পরিপন্থি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
