রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় সম্ভাবনাময় অতি লাভজনক ফসল হিসেবে কাজুবাদাম চাষ এখন চাষিদের শুধুই স্বপ্ন। ভাগ্যবদলের ফসল এখন আশ্রয়ণবাসীদের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কাজুবাদামের চারা রোপণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে বাগান তৈরিতে পরামর্শ দেয়া হয়।
উপজেলার বগেরবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় আশ্রয়ণবাসীদের ভাগ্যবদলে প্রায় ৫ বছর আগে ৫০০টি কাজুবাদামের চারা রোপণ করা হয়। গাছগুলো বড় হলেও এখনো অধিকাংশ গাছে ফল ধরেনি। অনেক গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। কাজুবাদাম চাষে উচ্চমূল্যে কীটনাশক, সার, পানি সেচ, আগাছা নিধনসহ নানা পরিচর্যায় ব্যয়বহুল খরচ। দিনমজুর আশ্রয়ণবাসীদের এই সব খরচ করেও কোনো ফল না পাওয়ায় তাদের ভাগ্যবদলে এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
স্থানীয়রা জানান, শুরুতে কাজুবাদাম চাষ নিয়ে অনেক আশার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় আগ্রহ কমে গেছে। অনেকেই এখন বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। উপজেলার বড় ভগবানপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে কাজুবাদামের চাষ করেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে চারা সরবরাহ দিয়েছিলেন। চারা রোপণের গত পাঁচ বছর পার হলেও দেখা মেলেনি কাজুবাদাম। বাগান পরিচর্যায়, উচ্চমূল্যে সার, ওষুধ, সেচ ও শ্রম উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে কৃষকদের।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও গাছে ফল না আসায় অধিক মূল্যে কাজুবাদাম বিক্রয়ে চাষিদের ভাগ্যবদলে এখন শুধু মাথায় হাত। আশ্রয়ণ প্রকল্পের চাষি তবারক, দুদু, ও তারেক জানায়, পাঁচ বছর ধরে অনেক আশা নিয়ে বাগান পরিচর্যা করেছি। কিন্তু গাছে ফল না আশায় সব পরিশ্রম ও খরচ বিফলে গেছে। আমাদের ভাগ্যবদলের স্বপ্ন এখন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল। ২০২২-২৩ অর্থবছরের আশ্রয়ণে কাজুবাদামসহ ফলজ বাগান প্রকল্প অফিসার উপজেলার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার জামিলুর রহমান জানান, কাজুবাদাম চাষে ওই এলাকার মাটি সুট করেনি মনে হয়। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, আমি নতুন এসেছি, ওই কাজুবাদাম চাষ সম্পর্কে আমার জানা নেই, খোঁজ নিতে হবে।
