নেত্রকোণার মদন উপজেলার ১১ বছর বয়সী এক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগে দায়ের হওয়া আলোচিত মামলার তদন্ত পৌঁছেছে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। মামলার অন্যতম আলামত হিসেবে সদ্য জন্ম নেয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছিল। এখন দুই নমুনার ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফলই তদন্তের পরবর্তী দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার প্রমাণকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আদালত সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার এস আই মো. আক্তারুজ্জামানের আবেদনের পর গত ৯ই জুলাই আদালত নবজাতকের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে গত ২৮শে জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে গিয়ে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করেন ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর। শিশুটিকে ঢাকায় না এনে সেফ হোমেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়, যাতে তার নিরাপত্তা ও শারীরিক ঝুঁকি কম থাকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গত ২রা জুলাই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। এরপরই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর কারাগারে রয়েছেন।
মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৪শে আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ওই সময়ের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মামলার অগ্রগতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩শে এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ৭ই মে আদালত অভিযুক্তকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আবেদনও অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ১২ই মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সিলেটের একটি সেফ হোমে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানেই বর্তমানে নবজাতকসহ তার অবস্থান। পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, এ মামলায় ফরেনসিক প্রমাণের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এটি একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী কার্যক্রম করা হবে বলে জানান তিনি।
