মানিক হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

ফন্ট সাইজ:

চাঞ্চল্যকর শ্রমিক মানিক হোসেন (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েও হয়নি। আপন বড় বোন তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও কারণ নিয়ে দেখা দিয়েছে ধূম্রজাল। এ অবস্থায় নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে নিহত মানিকের বোন সমলা আক্তার (২৪) জানায়, মানিক জোরপূর্বক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও গোপনে ভিডিও ধারণ করে একাধিকবার অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করে। এরই জের ধরে ও প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। গত ১২ই জুলাই প্রতিবেশী আত্মীয়দের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে সে ভাই মানিককে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে। সহযোগী হিসেবে সঙ্গে নেয় সাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার রইস উদ্দিনের মেয়ে সমলা আক্তার ১৩ই জুলাই সন্ধ্যায় সুকৌশলে ভাই মানিককে নিয়ে একই উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মহারাজার দীঘিতে ঘুরতে যায়। সেখানেও একটি বাড়িতে তারা শারীরিক সম্পর্ক করে। কিন্তু পুলিশ ওই বাড়িটি এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। ওই এলাকার একটি হোটেলে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে দীঘির ধারে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে ধরে হত্যার পর দীঘিতে ফেলার আগে মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করে ফোনটি উদ্ধার করতে পারেনি। ১৫ই জুলাই ওই দীঘি থেকে ভাসমান অবস্থায় মানিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মানিকের ভাই মামলার বাদী মালেক হোসেন বলেন, আমার বোন সমলা জবানবন্দি দিয়েছে মানিকের সঙ্গে তার অনৈতিক অবৈধ সম্পর্ক ছিল এটা মিথ্যা কথা।

সমলা নিজেকে বাঁচাতে নিজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছে। তবে প্রতিবেশী আত্মীয়দের ফাঁসাতে সে তার নিজের পরিকল্পনায় মানিককে হত্যা ও চিরকুট লিখে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করে কয়েকজনের নাম ব্যবহার করেছে এটা সত্য হতে পারে। আগের দুই স্বামী ডিভোর্সের পর সমলা আবারো বিয়ে করেছে তা আমরা জানতাম না। আপেল নামের একজন পাথর ভাঙা মেশিনের মালিক মাঝে মধ্যে আমাদের বাড়িতে আসতো। আশপাশে আমাদের চাচাতো ভাই, মামাতো ভাইসহ আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি। তারা আপেলের আমাদের বাড়িতে আসার বিষয়টি খারাপ চোখে দেখছিল। এ নিয়ে তারা সমলার সঙ্গে কথা বললে সমলা তাদের জানিয়ে দেয় আপেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তারা সমলার কাছে বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চাই। কিন্তু সমলা তা দেখাতে না চাইলে তারা ক্ষুব্ধ হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সমলা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। নিহত মানিক বোনের পরিবর্তে আত্মীয়স্বজনদের পক্ষ নেয়। পরে রাত ১২টার দিকে আত্মীয় প্রতিবেশীরা লাঠি দা নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে। আমি সে সময় বাইরে ছিলাম। তারা বাড়িতে গিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করলে কেউ বের না হলে তারা ফিরে যায়। আমার বাবা অসুস্থ। দীর্ঘ সাত-আট মাস ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিছানায়। ছোট ভাই নিহত মানিক বাবার বিছানাতেই ঘুমাতো। আর সমলা তার দুই মেয়েকে নিয়ে পাশের ঘরে থাকতো।

মালাদাম বাজার সংলগ্ন এলাকার সাহাবুদ্দিন সরাসরি মানিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মানিকের বোন সমলার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সাহাবুদ্দিনের নাম। ঘটনার রাতে সাহাবুদ্দিনই মানিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মহারাজার দীঘিতে ফেলে দেয়। সাহাবুদ্দিন নিহত মানিকের বড় আব্বা সামউদ্দিনের শ্যালক। এলাকাবাসীরা জানিয়েছে সাহাবুদ্দিন কোনো কাজ করে না। তার ছেলে ভ্যান চালিয়ে ও স্ত্রী কাজ করে সংসার চালায়। অনেকের ধারণা সমলার সঙ্গে সাহাবুদ্দিনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। নিহত মানিক তা জানতো। সে যেন এই অবৈধ সম্পর্কের কথা কাউকে না বলতে পারে এ কারণেই সমলার সহায়তায় সাহাবুদ্দিন মানিককে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মো. আবু তাহের বলেন, মানিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত সাহাবুদ্দিনকে এরই মধ্যে ৪ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন