চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাছের ঘের (চিংড়ি প্রকল্প) দখল, মালিকানা ও লাভের অংশীদারিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরল এলাকার বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বেড়িবাঁধের একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (৩০) পশ্চিম সরল বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আহত আরও দুইজনকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই মাছের ঘেরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও লাভের ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয় দু’টি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গভীর রাতে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হলে প্রথমে সংঘর্ষ ও ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণ শুরু হলে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ থেকে ১০ জন পুলিশকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে নিরপরাধ কাউকে পাওয়া গেলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয়ভাবে তৈরি একনলা বন্দুক ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনার মূল হোতাদের শনাক্ত এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
