মাথাগোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বৃদ্ধা জায়েদার দুর্বিষহ কষ্ট

মাথাগোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বৃদ্ধা জায়েদার দুর্বিষহ কষ্ট

ফন্ট সাইজ:

প্রায় ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জায়েদা বেগম। টিনের ভাঙাচোরা একটি জরাজীর্ণ ঘরই ছিল তার মাথা গোঁজার শেষ সম্বল। তবে গত ২০ দিন আগে ভারী বর্ষণে তার সেই সম্বলটি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে যায়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন তার একটু নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কথা তখন তিনি আছেন দুর্বিষহ কষ্টে। বর্ষায় দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে যাওয়া ঘরটি আর নতুন করে তুলতে না পারায় এখন রাত হলে অন্যের ঘরে আশ্রয় নেন বৃদ্ধা জায়েদা। বর্ষণে বিধ্বস্ত ঘরটি নতুন করে তুলতে চাতক পাখির মতো সহযোগিতার আশায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অপেক্ষায় স্বামীহারা বৃদ্ধা জায়েদা বেগম। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরমোল্লাজী এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রায় দেড় যুগ আগে আমার স্বামী আব্দুল জলিল মারা যান। এরপর

থেকে তার রেখে যাওয়া বসতভিটায় থাকা ভাঙাচোরা ঘরটিতে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছিলাম। আমার কোনো ছেলে নেই, আছে কেবল চার মেয়ে। তাদের সবাইকে বিয়ে দিয়েছি। এখন মেয়েরা সবাই স্বামীর সংসারে থাকে। পাড়া-প্রতিবেশী আর মেয়ের জামাইদের দেয়া সামান্য সহযোগিতায় কোনোরকমে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি। আমার এমন সামর্থ্য নেই- যে ভেঙে যাওয়া ঘরটি আবার নতুন করে তুলবো। এ ছাড়া এখন আমার বয়স প্রায় ৮০ বছর হয়েছে, তবুও সরকারি বয়স্ক বা বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য কোনো সুযোগ-সুবিধা পাই না। আমি এত অসহায় হওয়ার পরও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চোখে পড়ি না। আর কতো অসহায় হলে আমার খোঁজ নেবে জনপ্রতিনিধি আর সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজন?

প্রতিবেশী আলমগীর মিস্ত্রি ও বশির মিয়া বলেন, বৃদ্ধা জায়েদা বেগমের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তার নিজের ভিটা রয়েছে, কিন্তু সেখানে থাকার মতো এখন একটি ঘর নেই। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে অন্তত জীবনের শেষ সময়ে তিনি নিজের ভিটাতেই মাথাগোঁজার ঠাঁই ফিরে পাবেন। এ ছাড়া তাকে সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ওই বৃদ্ধার পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে তার ঘরটি মেরামত করার জন্য আর্থিক সহায়তা ও ঢেউ টিন প্রদান করা হবে। এ ছাড়া তিনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করে তা আমার কাছে জমা দিলে তাকে ভাতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। একইসঙ্গে তাকে সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানেরও চেষ্টা করবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন