ঝড়ে উড়ে গেছে শেষ আশ্রয়, অন্যের ঘরে ৭৫ বছরের নুরুল কবির

ঝড়ে উড়ে গেছে শেষ আশ্রয়, অন্যের ঘরে ৭৫ বছরের নুরুল কবির

ফন্ট সাইজ:

একসময় নিজের ছোট্ট একটি ঘর ছিল। সেটিই ছিল জীবনের শেষ আশ্রয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঝড় ও টানা বর্ষণে সেই ঘরটিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই ৭৫ বছরের বৃদ্ধ নুরুল কবিরের। বাধ্য হয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নুরুল কবির কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত হাজী ফরুক আহমদের ছেলে।

বৃদ্ধ নুরুল কবির জানান, প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে তার একমাত্র বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ঘরটি আর বসবাসের উপযোগী নেই। নিজের কোনো সঞ্চয় বা আয় না থাকায় নতুন করে ঘর নির্মাণ কিংবা মেরামত করার সামর্থ্যও নেই। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীর দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভর করে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার থাকার কোনো ঘর নেই। ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্যের ঘরে আছি। নতুন করে ঘর বানানোর মতো টাকা নেই। কেউ যদি একটু সহযোগিতা করতেন, তাহলে শেষ বয়সে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতাম।’ স্থানীয়রা জানান, নুরুল কবির অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। বয়সের ভারে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না।

ঝড়ে ঘর হারানোর পর তার দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তারা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত এই অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নুরুল কবিরের একটাই আকুতি- নিজের মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘর। এ বিষয়ে উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আক্তার নিলয় বলেন, ‘নুরুল হক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর আবেদন করলে আমরা সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে টিনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন