উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় সমুদ্র পথে সাঁতার কেটে এক দিনে হাজার হাজার অভিবাসী অনুপ্রবেশ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে সেনাবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন সরকার। সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় অন্তত ১৫ জন অভিবাসী পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার মরক্কো সীমান্ত সংলগ্ন কংক্রিটের বাঁধ বেয়ে হাজার হাজার অভিবাসী সমুদ্রে লাফিয়ে পড়েন এবং সীমান্ত প্রাচীর টপকে স্পেনের সেউতা অঞ্চলে সাঁতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই গণ-অনুপ্রবেশে সেউতার সীমান্ত ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে এবং পুরো উপকূলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই চাপ সামলাতে না পেরে মাদ্রিদের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে, সমুদ্রে ধরা পড়া অভিবাসীদের অবিলম্বে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, মানব পাচারকারী চক্র এই রায়ের সুযোগ নিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশে উৎসাহিত করছে। তাই সিভিল গার্ডের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে সেউতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেউতায় এই গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনা ইউরোপের রাজনীতিতেও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটিকে ইউরোপীয় সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্পেনের সাথে শেনজেন মুক্ত সীমান্ত চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন। তবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোসে লুইস আলবারেস ইতালির এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং ইউরোপীয় সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন।
