কুমিল্লায় জমির নামজারি নিয়ে অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লায় জমির নামজারি নিয়ে অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

ফন্ট সাইজ:

৩০ জুলাই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা এলাকায় একই জমিতে একাধিক নামজারি অনুমোদনের অভিযোগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের পরদিন পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অপর পক্ষ। তারা দাবি করেছেন, তাদের নামে সম্পন্ন হওয়া নামজারি সম্পূর্ণ বৈধ এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাবর মিয়া, আব্দুছ সাত্তার, শাহ আলম, শাহজাহান, মৃত শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং রেহেনা বেগম। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, সম্প্রতি রাশেদা বেগম যে সংবাদ সম্মেলন করে একই জমিতে অবৈধভাবে একাধিক নামজারি, অর্থ লেনদেন এবং তহশিলদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিতে তারা নিজ নিজ বৈধ উত্তরাধিকার ও প্রাপ্য অংশের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নামজারি সম্পন্ন করেছেন। নামজারি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তদন্ত ও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ফলে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে নামজারি অনুমোদনের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, একটি পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। সেই বিরোধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

এসময় তারা দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হলে অভিযোগের অসত্যতা প্রমাণিত হবে।

এ সময় তারা রাশেদা বেগমের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে রাশেদা বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন যে, একই জমিতে একাধিক নামজারি অনুমোদনের মাধ্যমে প্রশাসনিক অনিয়ম হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তহশিলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তখন পাওয়া যায়নি।

জমি সংক্রান্ত বিরোধটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন