৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

ফন্ট সাইজ:

শুক্রবার দুপুরে ৫.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। এর আগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ৫ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে দেশ। গত তিনদিনই ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত দেশে মোট ১০ বার ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে। অধিকাংশ কম্পনের মাত্রা মৃদু থেকে মাঝারি। ঘন ঘন ভূমিকম্পে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। গত বছরের শেষের দিকে ঘটা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চলতি মাসের সবচেয়ে জোরালো ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। পরপর দুই দফা এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন হওয়া এসব মৃদু-মাঝারি ভূমিকম্প বড় ধরনের দুর্ঘটনা, অর্থাৎ তীব্র ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে, এই ধরনের ভূমিকম্পে হতাহতের সম্ভাবনা কম থাকে।

ইউরো মেডিটেরিনিয়ান ভূমিকম্প কেন্দ্র- ইএসএমসি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা- ইউএসজিএস বলছে, শুক্রবারের এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩। এই ভূমিকম্পটি ২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সংঘটিত ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড ধরে এই কম্পন স্থায়ী হয়। ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ১৮৮ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ কবীর।

মাসের শুরুতেই ১লা ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ৩রা ফেব্রুয়ারি একই দিনে একাধিকবার কেঁপে উঠে দেশ। সেদিন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়। এরপর ৯ ও ১০ই ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে আরও দু’টি কম্পন টের পাওয়া যায়। ১৯শে ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২৫শে ফেব্রুয়ারি রাতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের মনিওয়া শহরের কাছে। ২৬শে ফেব্রুয়ারি ভারতের সিকিমে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। সবশেষ ২৭শে ফেব্রুয়ারির ৫ দশমিক ৩ মাত্রার কম্পনসহ ১০ দফায় হয় ভূমিকম্প।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ঘন ঘন কম্পন ভূত্বকের ভেতরে জমে থাকা শক্তির আংশিক নিঃসরণ হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় বড় মাত্রার শক্তি মুক্ত না হলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি। সাম্প্রতিক এই উচ্চহার ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক সংকেত কিনা, তা নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া মানবজমিনকে বলেন, কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প হচ্ছে। তার মানে, সিসমিক অ্যাক্টিভিটি হয়তো বেড়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এগুলা হয়তো ইন্ডিকেশন দিচ্ছে যে সামনে হয়তো বড় ভূমিকম্প আসতে পারে। আমরা এমনিতে একটা সিসমিক জোনের কাছাকাছি। এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে তেমন কিছু হয় না। এটলিস্ট ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের নিচে যেগুলো সেগুলো মাঝারি মাত্রারই ভূমিকম্প। এইরকম ভূমিকম্প সহনীয় স্ট্রাকচার আমরা তৈরি করি মিনিমাম। সেটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করা দরকার, ভূমিকম্প সচেতন করা দরকার, ভূমিকম্প সহনীয় স্ট্রাকচার তৈরি করা দরকার। মানুষজনকে জানানো দরকার। বিশেষ করে সিসমোগ্রাফ, যেটা দিয়ে আমরা ভূমিকম্প মেজার করি সে ধরনের ইনস্ট্রুমেন্ট আমাদের দেশে নাই বললেই চলে। এটা আমাদের ইনস্টল করা দরকার।
এর আগে, গত বছরে ২১শে নভেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বংশালের কসাইটুলী এলাকায় তিন পথচারী, রাজধানীর মুগদায় এক নিরাপত্তাকর্মী, রূপগঞ্জে এক শিশু, নরসিংদীতে এক শিশুসহ ৫ জন রয়েছেন। আহত হয়ে ৬ শতাধিক মানুষ দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার পরই অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে ঘন ঘন একাধিক মৃদু ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন