ফেনীতে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা

আলোচিত শিহাব হত্যা মামলা

ফেনীতে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা

ফন্ট সাইজ:

ফেনীতে জুলাই আন্দোলনে ২০২৪-এর ৪ঠা আগস্ট মহিপালে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে শহীদ ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট সৈয়দ আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ মামলার এজাহার ও চার্জশিটে ২৯ নম্বর আসামি সৈয়দ আবুল হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মো. সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবী দু’পক্ষের আইনজীবীর শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনে ছিলেন হোসেন। চার দফা তারিখ পরিবর্তনের পর দীর্ঘ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত। মামলাটিতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১৫৭ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এদের সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। গত বছরের ২৯শে নভেম্বর ২১৮ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর আগে ৩রা অক্টোবর ‘জুলাই শহীদ শিহাব হত্যা মামলা প্রত্যাহারে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ’ শিরোনামে মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশ হয়। তখনই নড়েচড়ে বসেন মামলায় সংশ্লিষ্টরা। তখন মামলাটির নথি জব্দ করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। চেষ্টা করেও মামলা বাতিল বা কোনো আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। উল্টো প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয় আদালতে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন, শিহাব হত্যাকাণ্ডে ফেনীর সাবেক তিন সংসদ সদস্যকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ মামলায় ১৪৯ জন এজাহারনামীয় ও তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ৭১ জনকে যোগ করে চার্জশিটে ২১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে তদন্তে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ৩ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ইতিমধ্যে ৮০ জন আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

আর মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২২টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। এসব মামলায় ২ হাজার ১৯৯ জন এজাহারনামীয় ও আরও ৪ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজারের বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪-এর ৪ঠা আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিহাব মারা যান। শিহাব ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর গ্রামের মাহফুজা আক্তার ও সিরাজুল ইসলামের বড় ছেলে। ২০২৪ সালের ২০শে আগস্ট ফেনী সদর থানায় ১৫১ জনকে আসামি করে মামলা করেন শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার। এ মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলোÑ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু, জিয়া উদ্দিন বাবলু প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন