অবশেষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৬ লেন নির্মাণে জটিলতার অবসান

অবশেষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৬ লেন নির্মাণে জটিলতার অবসান

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কল্যাণপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজে দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতার অবসান হয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জি কে গউছের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কল্যাণপুর এলাকায় একটি মন্দির, দু’টি মসজিদ, একটি কবরস্থান, একটি শ্মশান ও একটি মাদ্রাসার জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে নকশা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে জায়গা ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করা হলে ওই অংশে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ একাধিকবার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে জি কে গউছ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ইসকন, রামকৃষ্ণ মিশন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদ্যাপন পরিষদ, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির নেতৃবৃন্দ, মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় বসেন। সভায় হুইপ জি কে গউছ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মহাসড়ক নির্মাণে যেসব ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেগুলো যথাযথভাবে পুনর্বাসন এবং আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে। হুইপ জি কে গউছের এই আশ্বাসের পর উপস্থিত সব পক্ষ মহাসড়ক নির্মাণকাজে সহযোগিতা করতে সম্মতি প্রকাশ করেন। ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়ার পথ সুগম হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল রায়, মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন, বাহুবল মডেল থানার ওসি রুহুল আমিন তালুকদার, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী বেদমায়া নন্দজী, ইসকনের অধ্যক্ষ উদয় গৌর ব্রহ্মচারী, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মোতাহের হোসেন, এডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন, এডভোকেট স্বরাজ বিশ্বাস, এডভোকেট অহিন্দ্র দত্ত, শংকর পাল, সুখলাল সূত্রধর, এডভোকেট মিঠু গোপসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন