২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে আলাদা দু’টি ডেঙ্গু কর্নার চালু রয়েছে। সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অতিরিক্ত ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি রয়েছে।
একইসঙ্গে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গুর বড় ঢেউ এখনো শুরু হয়নি। সামনের দিনগুলোতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০শে জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত দুই সপ্তাহেই ভর্তি হয়েছে প্রায় শতাধিক। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী। একই সময়ে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৩ জনকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে মোট ২০টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এখনো রোগীদের ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। সরজমিন হাসপাতালের একটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ১০টি শয্যার মধ্যে ১০টিতেই রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিটি বেডে মশারি টাঙানো। পুরুষ ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স বলেন, আমাদের এই ওয়ার্ডে ১০টি বেড আছে। বর্তমানে ১০ জন রোগী ভর্তি আছেন।
তিনি জানান, অনেক সময় বেড সংকটের কারণে ফ্লোরে চিকিৎসা দিতে হয়। কিন্তু ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বর্তমানে দুইটি ডেঙ্গু কর্নার চালু আছে। প্রয়োজন হলে আরও বাড়ানো হবে। সামনের দিনগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখনো ডেঙ্গুর ঢেউ আসলে শুরু হয়নি। সামনে একটা বড় ধাক্কা আসবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের সরঞ্জামের সংকট নেই। প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে দেয়া হচ্ছে।
