ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল আজরাক মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চালানো প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। সেই সঙ্গে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় এক পরিবারের সদস্যরা নিহত হওয়ার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের দুটি আবাসিক বাড়িতে বাঙ্কার-বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে।
এতে একই পরিবারের বাবা, মা এবং তাদের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছে আরও দুই শিশু। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, ওই হামলার জবাবে তাদের মহাকাশ বাহিনী (অ্যারোস্পেস ফোর্স) জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পার্কিং এলাকা ও রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
তাদের দাবি, এতে তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও তিনটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত হয়েছেন।
তবে এই দাবির পক্ষে আইআরজিসি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জর্ডানের জনগণের প্রতি সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, জর্ডানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। মার্কিন বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল কেশম দ্বীপ, বুশেহর, ফার্স এবং খুজেস্তান প্রদেশের কয়েকটি এলাকা।
আইআরজিসির দাবি, সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি কেশম দ্বীপের চাহ তাঙ্গু এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে হয়। এ ছাড়া বুশেহর প্রদেশের চোগাদাক এলাকার কাছে এবং ফার্স প্রদেশের কাজেরুন ও ফারাশবান্দ জেলার কয়েকটি স্থাপনা, যার মধ্যে একটি ক্রীড়া হলও রয়েছে, সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।
