পাক-শাসিত কাশ্মীরে তিনদিনে ‘পুলিশের গুলিতে’ নিহত ৩৭

হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিখোঁজ

পাক-শাসিত কাশ্মীরে তিনদিনে ‘পুলিশের গুলিতে’ নিহত ৩৭

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গত তিনদিনে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে সোমবার ২৫ জন, মঙ্গলবার পাঁচজন এবং বুধবার আরও সাতজন নিহত হয়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও এনডিটিভির।

তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে দেশটির তথ্যমন্ত্রী আত্তা তারার দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা ভারতের কাছ থেকে অর্থ ও নির্দেশনা পাচ্ছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে গত জুন মাস থেকে বিক্ষোভ ও সহিংসতা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ পুরো অঞ্চলে কঠোর যোগাযোগ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা বন্ধ করে দেয়ায় অঞ্চলটি কার্যত পাকিস্তানের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক ধরপাকড়ও চালানো হচ্ছে।
এনিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান সরকারের প্রতি অবিলম্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে।

জেএএসি এবং তাদের সমর্থকেরা মূলত নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। গত সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম ধাপকে ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জেএএসি মুখপাত্র এস এ খান অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার মিরপুরে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর পর নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

তার ভাষায়, নিরাপত্তা বাহিনী মরদেহগুলো নিয়ে গেছে এবং মিরপুর হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মরদেহের ছবি ও ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। প্রমাণ মুছে ফেলতেই মরদেহগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুরের এক বাসিন্দাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সোমবারের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানুষ জড়ো হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। এ ছাড়া বুধবারও সংঘর্ষ হয়েছে।

তার দাবি, মরদেহগুলো হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে সেগুলোর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সহিংসতার পর আশপাশের সব দোকানও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানের মূলধারার সংবাদমাধ্যমও বিক্ষোভ ও হতাহতের অভিযোগ নিয়ে খুব কমই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এদিকে এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আত্তা তারার দাবি করেন, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বিক্ষোভ ভারতের অর্থায়ন ও নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে।

তবে এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জেএএসি মুখপাত্র এস এ খান। তিনি বলেন, এটি নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অধিকার দাবি করলেই তাকে ভারত সমর্থিত বা রাষ্ট্রবিরোধী বলা হয়।

জেএএসির নেতৃত্বে অঞ্চলটিতে প্রায় এক বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার অঞ্চলটির ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে এবং স্থানীয় রাজনীতিকে দুর্বল করছে।

এর আগে জুনে শুরু হওয়া আন্দোলনের সময়ও অঞ্চলটিতে সহিংসতায় অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময় পাক সরকার দাবি করেছিল, বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

এরপর জেএএসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে তাদের বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আন্দোলন দমনে কঠোর শক্তি প্রয়োগ করা হয়।
এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক ওই সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক পরিচালক ইসাবেল লাসে বলেছেন, রাওয়ালাকোট থেকে পাওয়া উদ্বেগজনক তথ্য জম্মু ও কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের বেআইনি বলপ্রয়োগের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা বন্ধ থাকায় ঘটনাগুলোর স্বাধীন যাচাই মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত চালু করে সাংবাদিক ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন