সরাইলে গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার, রহস্য

সরাইলে গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার, রহস্য

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সীমা রানী বিশ্বাস (২৮) নামের এক গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছেন সরাইল থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা শাহবাজপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ার স্বামীর বসতঘরের টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পরই ঘা ঢাকা দিয়েছেন নিহতের স্বামী রঞ্জন চন্দ্র বিশ্বাস। কেরোসিনের গন্ধ ও আগুনে পোড়ায় বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বলছেন, পরিবার থেকে কারেন্টে লেগে মৃত্যুর কথা বললেও কারেন্টের আলামত পাওয়া যায়নি। তাই মৃত্যুকে ঘিরে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রঞ্জন শাহবাজপুর দ্বিতীয় গেট এলাকায় জুতার ব্যবসা করেন। অনেকটা সহজ সরল প্রকৃতির তিনি। সকালে খাওয়া দাওয়া করে স্ত্রী-সন্তানদের বাড়িতে রেখেই সে দোকানে চলে যান। রঞ্জনের পাশের কক্ষেই বসবাস করছেন তার ভাই ও ভাবী। দুপুরের দিকে হঠাৎ টয়লেটের ভেতর থেকে সীমার আর্তচিৎকার ভেসে আসে। দুই শিশু সন্তান ও পরে রঞ্জনের ভাইয়ের স্ত্রী চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা এসে দেখেন টয়লেট ভেতর দিয়ে লাগানো। ফলে কেউই টয়লেটের দরজা খোলার সাহস করেননি। ওয়ার্ড মেম্বার মালেক মিয়া বলেন, আমি এসে দেখি কেরোসিনের গন্ধ লাগছে। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে দেখেন ভেতরে অগ্নিদগ্ধ সীমার মরদেহ পড়ে আছে। শরীর অধিকাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চামড়া খসে পড়ছে। দুই শিশু সন্তানকে জিজ্ঞেস করলাম সকালে তোমার বাবা-মায়ের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়েছে? তারা বললো, না। বিদ্যুতের একজন লাইনম্যান আনলাম। সেও বললো কারেন্টের সর্ট নয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন থানায়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই বলছেন, ওই মহিলা নিজের শরীরে নিজে আগুন দিতে পারেন না। এর পেছনে অবশ্যই কোনো রহস্য আছে।
নিহতের চাচাতো ভাই বিজয় বলেন, বেলা সোয়া ১১টার দিকে সীমার স্বামীর বাড়ি থেকে আমাকে ফোনে জানায় কারেন্টে লেগে সীমা মারা গেছে। তবে কারেন্টের কোনো আলামত না দেখায় আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কারেন্টে লাগার কথা বললেও বাস্তবে সেই ধরনের কোনো আলামত বা লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে কেরোসিনের গন্ধ পেয়েছি।
শিশিও পেয়েছি। ইলেক্ট্রিক সর্টে এভাবে সারা শরীর জ্বলে যাবে না। নিহতের শাশুড়ি, ননদ, স্থানীয় জনপ্রনিধিসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা মনে হলেও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে তদন্তের প্রয়োজন। মূল রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ এখনো পাইনি। উল্লেখ্য, নিহত সীমা হবিগঞ্জের হবিগঞ্জ সদর উপজেলার এড়ালিয়া গ্রামের রানু চন্দ্র শীল ও জোসনা শীলের কন্যা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন