মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার কুয়েতে একটি চীনা তেল ও নির্মাণসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ভবনে ভয়াবহ আঘাত হেনেছে ইরান। আকস্মিক এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে এ হামলা ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত না নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হামলার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। হামলায় ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কুয়েতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সৌদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি এক জরুরি বিবৃতিতে জানান, দেশের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত একটি চীনা কোম্পানির স্থাপনায় ইরানের অজ্ঞাতবস্তু আঘাত হানে। এতে বিকট বিস্ফোরণে ভবনটির বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং সেখানে কর্মরত একজন শ্রমিক প্রাণ হারান। খবর পেয়ে দেশটির উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও তিনি কোন দেশের নাগরিক, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
সামরিক বাহিনীর উচ্চ সতর্কতা: ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মেজর জেনারেল আল-ওতাইবি জোর দিয়ে বলেন, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখতে যা যা করণীয়, তার সবই গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, কুয়েতের নাগরিক এবং সেখানে বসবাসকারী বিদেশি অধিবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সাথে সমন্বয় রেখে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
ঘনীভূত আঞ্চলিক উত্তেজনা: আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও চীনা স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কুয়েতের মতো বন্ধুভাবাপন্ন ও শান্ত রাষ্ট্রে চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইরানের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে কুয়েত সরকার। এ হামলার ঘটনায় তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
