গাজায় নিজেদের প্রভাব তৈরি করতে প্রতিনিয়ত নতুন মাটির দেয়াল ও কনক্রিটের বেড়া তৈরি করছে ইসরাইল। সামরিক বাহিনীর এমন পদক্ষেপের কারণে গাজা উপত্যকার শত শত পরিবার আবারও ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক শর্ত তোয়াক্কা না করে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমানা গাজার ভেতরের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের স্থান দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে আসছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ক্রমান্বয়ে এলাকা দখলের নতুন কৌশল: উত্তর গাজার আল-তুফাহ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, তাদের চলাচলের প্রধান সড়ক সালাহ আল-দিনের ওপর আগের চেয়ে পশ্চিম দিকে সরিয়ে আনা হয়েছে হলুদ রঙের কনক্রিটের ব্লক। সেই সাথে প্রায় তিন মিটার উঁচু একটি বিশালাকার মাটির বাঁধ তৈরি করে তার ওপর উড়ানো হচ্ছে ইসরাইলি পতাকা। বাস্তুচ্যুত হওয়া মোহাম্মদ আল-শাওইশ আফসোস করে জানান, বোমার আঘাতে তাদের আসল বাড়িটি আগেই ধ্বংস হয়েছিল। এরপর তাঁবু টাঙিয়ে কোনোমতে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও তাদের সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয় এবং হামলায় সেই তাঁবুটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সেখানে ইসরাইলি বাহিনীকে একটি নির্দিষ্ট সীমানার পেছনে অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী গাজার ৫৩ ভাগ এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাদের বাহিনী বর্তমানে গাজার ৬০ ভাগেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি একে ৭০ ভাগে উন্নীত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে দেখা গেছে, গাজায় বর্তমানে ৪২ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে মাটির বাঁধ ও সামরিক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।
ধ্বংসযজ্ঞ ও তীব্র মানবিক সংকট: নিরাপত্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইল গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ মেয়াদী সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করার জন্যই এসব স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তুলছে। এসব সীমান্ত ও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের রাস্তা পরিষ্কার করতে খান ইউনূস, দেইর আল-বালাহ ও জেইতুন এলাকায় নিয়মিত বুলডোজার চালানো হচ্ছে। ভেঙে ফেলা হচ্ছে হাজারো ঘরবাড়ি, গ্রিনহাউস ও শতবর্ষী জলপাই বাগান। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্থায়ী আশ্রয়ের অভাবে বর্তমানে গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিত্যদিনের এই স্থানান্তরের কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা।

Masud
২৭ মিনিট আগেMay Allah save Palestinian people. Ameen.