মধ্যরাত থেকে দুই মাস পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরা বন্ধ

মধ্যরাত থেকে দুই মাস পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরা বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

ইলিশ পোনা (জাটকা) সহ সকল মাছ রক্ষায় শনিবার মধ্যরাত থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ ৬টি নদী অঞ্চলে দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার পর থেকে শুরু হবে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। যা চলবে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা খাদ্য সহায়তার চাল পাবেন। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৯ হাজার জেলের প্রত্যেককে সরকার জনপ্রতি ৪০ কেজি হারে চাল কিস্তিতে ১৬০ কেজি করে চাল দেবে। নিষেধাজ্ঞার এ সময় জেলেরা নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ করবেন। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন জেলেরা। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতে ২০০৬ সাল থেকে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে সকল প্রকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এই সময় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার আর হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স। এই দুই মাস উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান- মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে নির্ধারিত বিজিএফ’র চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। মা-জাটকা ইলিশ রক্ষায় অভিযান হবে কঠোর। দু’মাসের এই অভয়াশ্রমে অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে মৎস্য বিভাগ। মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনাপাড়ের মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন- মতলব উত্তরের ৩০ কিলোমিটারের এই নৌ-সীমানার মধ্যে জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করে, তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। এ বিষয়ে কথা হলে মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মণি বলেন- অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন