ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার দূরপাল্লার মিসাইল ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের ঠিক একদিন পরই এই জোরালো হামলা চালানো হলো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জল, স্থল ও আকাশপথ থেকে নিখুঁত দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যের অবতারণা হয় জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে। সেখানে একটি আবাসিক ভবনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৫ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুসহ ৬ জন নিহত হন। রাজধানী কিয়েভ এবং পোল্যান্ড সীমান্ত সংলগ্ন লভিভ শহরেও বেশ কিছু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। কিয়েভে পাতাল রেল স্টেশনগুলোতে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়ে রাত কাটান।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার পেঞ্জা শহরে একটি বৃহৎ গুদামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, ওই গুদামটি রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত হতো। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্ত জুড়ে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সময়ে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে পোল্যান্ডের একটি গ্রামে অজ্ঞাত একটি বস্তু পতিত হয়ে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
পোলিশ সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে তারনাওয়া-কোলোনিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। পোলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলার পর তারা যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখে এবং বিস্ফোরণের পরপরই সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে।
