কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা এলাকায় একই দাগের জমি অবৈধ অর্থের বিনিময়ে একাধিক নামজারি (জমাখারিজ) অনুমোদনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই প্রবাসীর মা রাশেদা বেগম। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে স্থানীয় এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট তহশিলদার মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরবর্তীতে অনুমোদিত নামজারিগুলো বাতিলের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাশেদা বেগম বলেন, তার স্বামী মরহুম ছাদেক মিয়া পারিবারিক বণ্টনসূত্রে প্রাপ্ত ২৪ শতক জমিতে প্রায় ২৫ বছর ধরে একটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করতেন। মৃত্যুর আগে তিনি ওই ২৪ শতক জমি তার দুই সন্তানের নামে দান করে যান এবং তিনি জীবিত থাকাকালীন যথাযথ নিয়মে জমিটি তাদের নামে নামজারি (জমাখারিজ) সম্পন্ন করেন সেই থেকে আমরা নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করে আসছি ।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বের নামজারির তথ্য গোপন রেখে স্থানীয় তহশিলদার মুজিবুর রহমান অবৈধ অর্থের বিনিময়ে একই জমি অন্যান্য ওয়ারিশদের নামে আরও ছয়টি পৃথক নামজারি অনুমোদন করেছেন। এর ফলে পরবর্তীতে অনুমোদিত এসব নামজারির কাগজ ব্যবহার করে তার দুই ছেলের নামে থাকা জমি এলাকার প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাশেদা বেগম আরও বলেন, তার দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তিনি ও তার একমাত্র মেয়ে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরে প্রতিকার চাইছেন। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একই জমিতে পরবর্তীতে অনুমোদিত ছয়টি নামজারি বাতিল, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট তহশিলদার মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এ বিষয়ে অভিযুক্ত তহশিলদার মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত নাম্বারে ২ বার কল করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
