নেতানিয়াহুর ওপর আবারও বিরক্ত ট্রাম্প

নেতানিয়াহুর ওপর আবারও বিরক্ত ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

আবারও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে ইরান ইস্যুতে এমন বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। নেতানিয়াহু ইরান সংক্রান্ত আলোচনার পরিকল্পিত বিষয়গুলো আগেভাগেই প্রকাশ্যে চলে আসায় ট্রাম্প অসন্তোষ জানান। দুই নেতার সম্পর্কের টানাপড়েনের এটিকে নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নিয়ে আলোচনা করতে চান। এমন খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এটা আমাকে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) বলে দেয়ার দরকার নেই। বিবি এটা বলছে, কারণ সে চায় আমি যেন বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত থাকি।

ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প আরও বলেন, তুমি সরাসরি আমাকে বলছ না কেন? পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দেয়ার কী দরকার? এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিউ ইয়র্ক পোস্ট সোমবার জেরুজালেমের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিতে পারেন যে ইরান তার অন্যতম প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ভূগর্ভে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক কার্যক্রম জোরদার করছে এবং শান্তিচুক্তি করতে চাইলেও বাস্তবে সে বিষয়ে সত্য বলছে না। ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পাশাপাশি বসে হাসিমুখে কথা বলছেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত একান্ত বৈঠক করেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট দুটি বৈঠককেই ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেছেন। রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সাফল্য পাওয়ায় জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সংঘাতের বিস্তৃত সমাধানে অগ্রগতি না হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরও জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা করা ট্রাম্প-সমর্থকদের সমালোচনার কারণে নেতানিয়াহুর প্রতি হোয়াইট হাউসের বিরক্তি বাড়ছে।
ইসরাইল ও ইউক্রেনের দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের স্মরণসভায় অংশ নিতে। গ্রাহাম ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও ইউক্রেন উভয় দেশেরই জোরালো সমর্থক ছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত দুটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে। ইরান যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে তিনি আপাতত মার্কিন বিমান হামলা স্থগিত রেখেছেন। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যে উৎসাহিত জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা জরুরি।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সমর্থন চান নেতানিয়াহু

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কখনও উষ্ণ, কখনও শীতল। বিভিন্ন সময়ে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে লেবাননে আরও বড় হামলা চালানো থেকে নেতানিয়াহুকে বিরত রাখারও চেষ্টা করতে হয়েছে ট্রাম্পকে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ২৭শে অক্টোবরের নির্বাচনের আগে পুনঃনির্বাচন প্রচারণার জন্য ট্রাম্পের সমর্থন চাইছেন নেতানিয়াহু। দুই নেতার ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে আনা একটি বৈঠক নেতানিয়াহুর জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তিনি চাপে রয়েছেন। বৈঠকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। ট্রাম্প এখন সৌদি আরবকেও এই চুক্তিতে যুক্ত করতে চান। গত সপ্তাহে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির শর্ত হিসেবে রিয়াদকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়ার কথা বলেন। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ ছাড়া এই চুক্তিতে যোগ দিতে এখন পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছে সৌদি আরব।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন