ঘানার সবচেয়ে লম্বা মানুষ সুলেমানা আবদুল সামেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহে....রাজিউন)। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে একজন তারকাখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ৩৩ বছর বয়সী সুলেমানা সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর তামালের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার নিজ গ্রাম গামবাগা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ওই হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। তার পায়ের ক্ষত সংক্রমিত হয়ে পড়ায় চিকিৎসা চলছিল। তার স্বজন সুলেমানা আবদুল কুদুস বিবিসিকে বলেন, তিনি কতটা উদার ও দয়ালু ছিলেন তা সবাই জানত। কীভাবে ঘটনাটি ঘটল তা জানতে তার মৃত্যুর পর থেকে এখনও অসংখ্য মানুষ আমাদের বাড়িতে আসছেন। বিশের কোঠায় থাকতেই তার জায়ান্টিজম (অস্বাভাবিক দৈত্যাকৃতি বৃদ্ধি) ধরা পড়ে। ২০২২ সালের শেষ দিকে বিবিসি তার উচ্চতা মেপে দেখেছিল ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি (২২৩ সেন্টিমিটার)। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে তিনি আরও কিছুটা লম্বা হয়েছিলেন। সবার কাছে তিনি ‘আউচে’ নামে পরিচিত ছিলেন। হাউসা ভাষায় যার অর্থ চলো যাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মারফান সিনড্রোম নামের একটি জেনেটিক রোগে ভুগছিলেন। এই রোগের কারণেই তার হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে লম্বা হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সম্প্রতি ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামার ভাই এবং ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মাহামা তার পাশে দাঁড়ান। তিনি শুধু আউচের সঙ্গে সাক্ষাৎই করেননি, তামালে টিচিং হাসপাতালে তার চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি সম্ভাব্য চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কেও সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছিলেন।
কুদুস জানান, আউচের পায়ের ক্ষত সরাসরি মারফান সিনড্রোমের কারণে হয়নি। তবে তার শারীরিক অবস্থার জটিলতার ফলেই এটি দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তিনি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু সোমবার সকালে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। কুদুস বলেন, সবাই খুবই শোকাহত। তিনি জানান, হঠাৎ এই মৃত্যুর খবরে গামবাগার বাসিন্দারা হতবাক হয়ে পড়েছেন। আউচে তাদের ছোট্ট গ্রামটিকে দেশজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিলেন। কুদুস বলেন, দেশের যেখানেই যেতেন, কেউ তার বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলতেন, গামবাগা। তখন সবাই বলত, ওটাই তো সবচেয়ে লম্বা মানুষের গ্রাম। এতে আমাদের গ্রামের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছিল। তিনিও ছিলেন সবার খুব প্রিয়।
আউচে জন্ম থেকেই অস্বাভাবিক লম্বা ছিলেন না। ২২ বছর বয়সে হঠাৎ করেই তার শরীর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, তখন তিনি রাজধানী আক্রায় একটি কসাইখানায় কাজ করতেন। তার ভাষায়, প্রথমে লক্ষ্য করলাম, আমার জিহ্বা এতটাই বড় হয়ে গেছে যে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিলাম না। কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, তার শরীরের প্রায় সব অংশই অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে শুরু করেছে। পরে চিকিৎসকরা তার মারফান সিনড্রোম শনাক্ত করেন। এই রোগ শরীরের সংযোজক টিস্যুকে আক্রান্ত করে।
প্রায় নয় বছর আগে অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে তাকে গাড়িচালক হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে গামবাগায় ফিরে যেতে হয়। তিনি বলেন, মারফান সিনড্রোম তার সামাজিক জীবনও সীমিত করে দিয়েছে। তার ভাষায়, আগে অন্য তরুণদের মতো আমিও ফুটবল খেলতাম। আমি খুবই ভালো অ্যাথলেটিক ছিলাম। কিন্তু এখন অল্প দূরত্বও হাঁটতে পারি না। তবে বিবিসির প্রতিবেদনের সময়ও তিনি জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখেছিলেন এবং নিজের তারকাখ্যাতি উপভোগ করতেন। পরিবার জানিয়েছে, অতিরিক্ত মানুষের সমাগমের আশঙ্কায় তাকে নিজ গ্রাম গামবাগার পরিবর্তে তামালেতেই দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
