ভারতে তেলাপোকা জনতা পার্টির ২০শে জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ মিছিল চলাকালীন ছাত্র বিক্ষোভের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের বিষয়ে মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কঠোর বার্তা দিয়েছে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত হতে হবে। যারা বাড়াবাড়ি করেছে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যদি কোনো দায়বদ্ধতা নির্ধারণ না করা হয়, তবে তদন্ত অর্থহীন।’ ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত পুলিশের বর্বরতার বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছেন। শীর্ষ আদালত বলেছে যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বাহিনীর সমস্ত কথিত বাড়াবাড়ির তদন্তের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
একটি অবাধ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য আগামী সোমবার আদালত একজন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিশেষত ভারতের একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে পারে। শীর্ষ আদালত কেন্দ্র এবং আসাম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কেরালা রাজ্যগুলোর কাছে জবাব চেয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জোর দিয়ে বলেছে যে, আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের একটি নতুন প্রটোকল প্রয়োজন। আদালত উল্লেখ করে যে, তেলাপোকা জনতা পার্টির নেতৃত্বে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশ আগে থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেনি। দেশ জুড়ে পরীক্ষায় অনিয়ম এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকারী ছাত্রদের ওপর পুলিশের বাড়াবাড়ির অভিযোগ এনে করা একগুচ্ছ আবেদনের শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সহিংসতার অনেক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।
আইনজীবীরা ইলেকট্রিক ব্যাটন ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরেছে। এর আগে ছাত্রদের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে ছাত্র ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংবিধানের অধীনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ‘সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত’। আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা যাবে না। এদিকে, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেপ্তার বা আটক হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী এবং যাদের কোনো ফৌজদারি অপরাধের পূর্ব ইতিহাস নেই, এমন সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাপক অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট এও নির্দেশ দিয়েছে যে, দিল্লির যন্তর মন্তর এবং অন্যান্য বিভিন্ন রাজ্যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে জড়িত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো এফআইআর-এর বিষয়ে যেন কোনো জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয়।
