টিসিবি’র পণ্য কিনতে গিয়ে দেয়াল ধসে দুইজনের মৃত্যু

টিসিবি’র পণ্য কিনতে গিয়ে দেয়াল ধসে দুইজনের মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর মিরপুরের লাভ রোডে টিসিবি’র পণ্য সংগ্রহের সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর একটি দেয়াল ধসে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের দেয়াল ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমা বেগম নামে এক নারীকে পঙ্গু হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। তিনি পাশের জনতা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাকে বিকাল পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোয়া ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, দুপুর ১টা ২৬ মিনিটের দিকে হঠাৎ মিরপুর কলেজের দেয়াল ধসে পড়লে ৮ জন আহত হন। পরে তাদের মধ্যে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, সেখানে প্রতিদিনই টিসিবি’র পণ্য বিক্রি হয়। কিছুটা কম দামে নিত্যপণ্য নিতে মানুষ ভিড় করে এখানে। তখন অনেক মানুষ পণ্য সংগ্রহের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ করেই প্রাচীরটি লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের ওপর ধসে পড়ে। এতে কয়েকজন দেয়ালচাপা পড়েন। লোকজন ভাঙা দেয়াল সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি হাফিজুর বলেন, একটা বিকট শব্দ হয়। পাশেই আমাদের একটি মোবাইল টিম ছিল। পরে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সবাই মিলে ইটের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধার করার চেষ্টা করি। আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় নাসিমা বেগম নামের ওই নারীকে পঙ্গু হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে। পরে ঢাকা মেডিকেলে এক পুরুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেখানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন আরেক নারী। ওসি বলছেন, ওই দেয়ালটা অনেক পুরনো। এটার উচ্চতাও অনেক বেশি, ১০ থেকে ১২ ফিট হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, টিসিবি’র পণ্য নিতে অনেক মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই সীমানাপ্রাচীরটি ধসে পড়ে। এতে সাত থেকে আটজন চাপা পড়েন। এদিকে এক নারী ও এক পুরুষকে পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোয়া ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা অজ্ঞাত (৪০) এক ব্যক্তিকে নিহত ঘোষণা করেন ও রাজিয়া বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা রাজিয়া বেগমের জামাতা মোহাম্মদ রুবেল বলেন, আমার শাশুড়ি বিসিবি পণ্য নেয়ার জন্য মিরপুর মডেল থানার লাভ রোড মন্দির মিরপুর-২ কলেজে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ প্রাচীর দেওয়াল বসে পড়ে। পরে দুইজনকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করে ও আমার শাশুড়িকে ভর্তি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশেপাশের লোকের মুখে জানতে পেরেছি নিহত ব্যক্তি রিকশাচালক ছিলেন তার নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আমার শাশুড়ির গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার মুলাদী থানার দক্ষিণ কাজীরচর এলাকায়। তিনি মৃত নুরুমিয়ার স্ত্রী। বর্তমানে বাসা নং-৯০ এসি পরিবহন গলি, মিরপুর-১০, এলাকা থাকেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মিরপুরের ঘটনায় এক নারী সহ আমাদের এখানে দুইজন এসেছিল, এক ব্যক্তিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন ও এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন