আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-কে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনটি বাতিলের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। এতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। রিটকারীর দাবি, পরবর্তীতে সিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবন্দিদের নিঃশর্ত প্রত্যাবাসনের ফলে এ আইনের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। রিটে আরও দাবি করা হয়, ২০০৯ সালের পর আইনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনরায় কার্যকর করা হয় এবং তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ‘বিচারিক হত্যা’র মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া আবেদনকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনটির প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ন্যায়বিচার ও দণ্ডসংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষার পরিপন্থি।
একই সঙ্গে সংবিধানের ৯৪ (৩) অনুচ্ছেদের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনও সংবিধানবিরোধী বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
