২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন সহ বিগত সময়ের বিতর্কিত সব নির্বাচনের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিগত সময়ের নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা থাকলেও বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রে এক মিনিটেরও কম সময়ে হাজার হাজার ভোট দেয়া হয়েছে। তাই ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের প্রতিটি নির্বাচনেরই সঠিক ইনভেস্টিগেশন বা তদন্ত হওয়া দরকার। নৈশকালীন অনিয়মের নির্বাচনগুলো দেশের শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে চরম ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে হওয়ার মতো নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী অপরাধের সঙ্গে যেসব স্তরের কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারিসহ নানা আইনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
সাগর-রুনি হত্যা মামলা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে সদিচ্ছার অভাবে এই মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, তনু হত্যার তদন্ত যেমন নতুন করে গতি পেয়েছে, তেমনি সাগর-রুনি হত্যাসহ পূর্বে ঘটে যাওয়া এবং ঝুলে থাকা সকল ফৌজদারি অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহত সাংবাদিকদের সহায়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের জন্য সাধারণ সুবিধার বাইরে তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়ের ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর অধীনে বিশেষ সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে সাংবাদিকদের অসামান্য ত্যাগকে নথিভুক্ত করতে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষা বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্বে থাকাকালীন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না। তবে পদ ছাড়ার পর যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব এবং বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দেশের শিল্পখাতে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি, অলিগার্কদের সুবিধা দেয়া ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পরিবর্তে আমদানিনির্ভর এলএনজি’র ওপর নির্ভরতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংকট কাটাতে দ্রুত ভোলার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো এবং সমুদ্রে নতুন গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রথম ধাপ শুরু হলে পর্যায়ক্রমে সকল স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ও ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধনী ও স্মারক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
