মিরাজ থাকছেন নাকি লিটন আসছেন

মিরাজ থাকছেন নাকি লিটন আসছেন

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে। টাইগার ক্রিকেটে গুঞ্জন, মিরাজের পরিবর্তে জাতীয় দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিস্ফোরক ব্যাটার লিটন কুমার দাস। ক্রিকেট বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সাদা বলের উভয় সংস্করণে অভিন্ন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিসিবি। তবে লিটনই অধিনায়ক তা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। ধারণা করা হচ্ছে আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও বিসিবির মিডিয়া বিভাগের প্রধান আসিফ রাব্বানি এ নিয়ে বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘কাল (আজ) বোর্ড মিটিং; তবে সেখানে ওয়ানডে অধিনায়ক নিয়ে আলোচনা হবে কিনা তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আর লিটন না মিরাজ- তা নিয়ে আসলে আমাদের এখনো কোনো আলোচনাই হয়নি। এটি তো পরের বিষয়, হাতে আরো সময় আছে; আলোচনা হলে এখন হতে হবে এমন তো নয়। অন্যান্য অনেক বিষয় আছে যা নিয়ে আলোচনা হবে।’

৩ ফরম্যাটে ৩ জন আলাদা অধিনায়ক রাখার সাম্প্রতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে সরে আসছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা, এমনও শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে লাল বলে একজন আর সাদা বলের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) একজন অধিনায়ক নিয়ে ভাবনা আছে বলেই জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘অধিনায়ক কে হচ্ছে ওয়ানডেতে, তা এখনো কোনো পরিচালকের সঙ্গেই আলোচনা হয়নি। তাই মিরাজের পরিবর্তে লিটন কিনা, সেটি বলা কঠিন। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে হয়তো ৩ ফরম্যাটে আলাদা আলাদা ৩ জন অধিনায়কের ভাবনা থেকে সরে আসতে পারে বিসিবি। এটি নিয়ে ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ কাজ করবে। সব কিছু বিসিবি সভাপতিই দেখছেন। হতে পারে লাল বলে একজন আর সাদা বলের ২ ফরম্যাটে একজন অধিনায়ক করা হতে পারে।’ বর্তমানে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব লিটনের হাতেই; এবার তাকে দেওয়া হতে পারে ওয়ানডে দলের দায়িত্বও। এও শোনা যাচ্ছে তাওহীদ হৃদয়কে সাদা বলের ২ সংস্করণের জন্যই সহ-অধিনায়ক করা হতে পারে। তবে বিসিবির এক পরিচালক জানান, ‘এই সব আমরাও শুনছি বা বিভিন্ন সংবাদ থেকে জানছি, কিন্তু সত্যি বলতে বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা বা আলোচনা হয়নি। আর কাল (আজ) বোর্ডসভায় এ নিয়ে আলোচনা হবে কিনা তাও জানি না।’

অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করছে মাঠের ভেতরের নানা সমীকরণ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের গুঞ্জন। অনেকের মতে, অধিনায়ক হিসেবে মিরাজ যথেষ্ট আগ্রাসী নন। কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে তার ঘাটতি দেখা গেছে। মূলত এই কারণেই ওয়ানডের মূল দায়িত্ব থেকে এই তারকাকে সরিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়। কিন্তু লিটন দাসকে নিয়েও আছে প্রশ্ন। তিনি নিজেই নানা সময় ফর্মে থাকেন না; একটি ম্যাচে ভালো করলে পরের ম্যাচগুলোতে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে শুরুতে অবশ্য বাঁহাতি ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তকে পুনরায় ৫০ ওভারের দলের অধিনায়কত্বে ফিরিয়ে আনার একটি ভাবনা বিসিবির মাথায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত লাল ও সাদা বলের ক্রিকেটে আলাদা নজর দেয়ার চিন্তা থেকে শান্তকে শুধু লাল বলে রাখারই চিন্তা চলছে। এককথায়, শান্তকে কেবল ৫ দিনের ক্রিকেটে অর্থাৎ টেস্ট দলের অধিনায়কত্বেই মনোযোগী রাখতে চায় বোর্ড। এর মাধ্যমে একজন অধিনায়কের ওপর থেকে অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানো সম্ভব হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও, লিটন যেহেতু ইতোমধ্যেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে সফলভাবে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাই তার হাতেই ওয়ানডের ভার তুলে দেয়া যুক্তিযুক্ত মনে করছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ৩ সংস্করণে ৩ জন অধিনায়ক থাকলে দলে যোগাযোগের অভাব তৈরি হয় এবং অভ্যন্তরীণ বিবাদটাও বাড়ে। জানা গেছে সভায় এই বড় রদবদলের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। তবে আজ তা আলোচনা হলে এখনই অধিনায়ক পরিবর্তন ঘোষণা করা হবে কিনা, তা নিয়ে বিসিবির দায়িত্বশীল কেউ জানাতে রাজি হননি। বিসিবির মিডিয়া বিভাগের প্রধান বলেন, ‘দেখেন ?তিনি যদি আলোচনা করেন সেটি ভিন্ন বিষয়। তিনি হয়তো জানাবেন।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন