মার্কিন কংগ্রেসে ফিফা সভাপতিকে তলব

মার্কিন কংগ্রেসে ফিফা সভাপতিকে তলব

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কংগ্রেস। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি পাঠিয়ে ফিফার কাছে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠজনদের উপহার, অর্থ কিংবা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত সব যোগাযোগ ও নথির ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি গত বছর ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার কেনা কার্যালয়ের ভিজিটর লগও চাওয়া হয়েছে। কমিটি ইনফান্তিনোকে একটি ট্রান্সক্রাইবড সাক্ষাৎকারে বসারও অনুরোধ জানিয়েছে। নথিপত্র জমা ও সাক্ষাৎকারের জন্য আগামী ৯ই আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রিপাবলিকানদের সমর্থন ছাড়া ইনফান্তিনোকে হাজির হতে বাধ্য করার ক্ষমতা রাসকিনের নেই।

চলতি বছরের বিশ্বকাপ ঘিরে ট্রাম্প-ইনফান্তিনো সম্পর্ক আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে নতুন করে তৈরি করা ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেয়া হয় কেনেডি সেন্টারে। গত জুলাইয়ে ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে কার্যালয় খোলে ফিফা। টুর্নামেন্ট চলাকালেও দুজনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য ইনফান্তিনোকে একাধিকবার ফোন করেন ট্রাম্প। পরে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দল ও ফুটবল সংস্থার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পুরো টুর্নামেন্টে রাজনৈতিক ছায়া ফেলে।

ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে কানাডা ও মেক্সিকোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পও ইনফান্তিনোর পাশে মাঠে নামেন। তখন নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের দর্শকরা তাদের দুয়ো দেন। রাসকিনের চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের একটি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টানা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দুর্নীতি নিয়ে মার্কিন সরকারের তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৫ সালে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্পোর্টস মার্কেটিং নির্বাহীদের বিরুদ্ধে আনা ২০-এর বেশি ব্যক্তির মামলাও। চিঠিতে রাসকিন লেখেন, ‘ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল বিশ্ব ফুটবলের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি সংস্কৃতি থেকে মুক্তির জন্য। কিন্তু বাস্তবে শুরু থেকেই ফিফার নীতি-নৈতিকতা রক্ষার কাঠামো ভেঙে ফেলেছেন তিনি এবং সংস্থার এথিক্স কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে সরিয়ে দিয়েছেন।’ এই স্বচ্ছতার অভাবই তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাসকিন। চিঠিতে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অ্যাটর্নি জেনারেলের তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের কারণে টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় বহু সমর্থক খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে সমালোচনা হয়েছিল। রাসকিন চিঠিতে বলেন, ‘ফিফা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামপ্রতিক এই লেনদেন ছোটখাটো কোনো ঘটনা নয়, বরং এতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগে ফিফা অবৈধ মূল্যবৃদ্ধি ও প্রতারণামূলক টিকিট বিক্রির পথ বেছে নিয়েছে।’ এই সমালোচনার জবাবে সোমবার ইনস্টাগ্রামে ১৫ পর্বের এক দীর্ঘ বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইনফান্তিনো। সমালোচকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও মিথ্যা বয়ান ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি এবারের বিশ্বকাপকে সফল আয়োজন হিসেবে তুলে ধরেন। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে ২০০-র বেশি সদস্য সংস্থা ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানালেও কিছু সংস্থা তার বিরোধিতায় নেমেছে। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ফিফার এথিক্স কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফিফার সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের এই সম্পর্ক এবারের বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর চলতি আসরের সাফল্যের পর ২০৩৮ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়েও যুক্তরাষ্ট্রের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন