বন্ধ জুট মিলগুলো চালু হলে ৬০-৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে

বন্ধ জুট মিলগুলো চালু হলে ৬০-৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে

ফন্ট সাইজ:

বিগত সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া সবগুলো জুট মিল চালু হলে ৬০-৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে বন্ধ জুট মিল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাটের হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। পাট পণ্যকে জনপ্রিয় করতে বাংলাদেশ বিদেশে পাট কর্নার চালু, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ১ কোটি ৩৫ লাখ পাটের ব্যাগ বিতরণ ও নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জুট এক্সপো’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল বিগত সরকারের আমলে বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন) এবং বিটিএমসি (বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন)-এর অধীন বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালু করা। ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি শিল্পগোষ্ঠী, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলও আসছে তাদেরকেও অফার করেছি। দেশীয় স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠী আছে- তাদেরকে বিনিয়োগ করার জন্য আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিজেএমসি’র প্রায় ২৫টি এবং বিটিএমসি’রও প্রায় ২৫টি মিল- সবগুলো মিলই বন্ধ। ইতিমধ্যে ১৪টির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই বিজেএমসি’র আরও চারটি এবং বিটিএমসি’র আরও তিনটি মিল বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় যাবে। চুক্তির পর আমরা বিনিয়োগকারীদের তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেই।

কারণ পুরনো ভবন সংস্কার, নতুন কারখানা নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনে সময় লাগে। তবে আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে আরও সাত-আটটি মিলের চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। সবগুলো মিল চালু করা সম্ভব হলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদেরকে আধুনিক প্রযুক্তির ট্রেনিং করানো, পাটের বীজ সংকট নিরসনে আমদানি, গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাত উদ্ভাবন ও খাল খননের মাধ্যমে পচনের জায়গার ব্যবস্থা করছে মন্ত্রণালয়। পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর বিষয়ে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। সরকারি অফিসে টিস্যু বক্স, ফাইল, বিভিন্ন অফিস সরঞ্জামে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। ব্যাংকগুলোতেও বড় অঙ্কের টাকা বহনের জন্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহার, শপিংমল, সুপারশপ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ৮১টি বিদেশি মিশনে পাট কর্নার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটের ব্যাগ বিতরণের বিষয়ে শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ দিচ্ছি। আমাদের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ব্যাগ দিবো। প্রতিটা স্কুলের ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত। প্রথমে প্রতিটি উপজেলার একটি করে বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ব্যাগ বিতরণ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ ব্যাগ বিতরণ করা হবে।
পাট চাষে কৃষকদের বিমুখতা থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। আরেকটি বড় সমস্যা হলো পাটের জাক দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকা। এ কারণেই সরকার খাল খনন কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদেরকে উৎসাহ দিলে পাটের উৎপাদন আরও বাড়বে।





কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন