টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ১৮ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবারো পরীক্ষার হলে ফিরেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গতকাল চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলাÑরাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এদিনের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দৈনিক পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ জেলার ১১৪টি কেন্দ্রে মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৮২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জেলাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৫৬ হাজার ৫৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ হাজার ৩৮৫ জন অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ২০২ জন। কক্সবাজারে ৯ হাজার ৯২ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৮২৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ২৬৩ জন। রাঙ্গামাটিতে ৩ হাজার ৯৬৬ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৮৫৭ জন অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ১০৯ জন। খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে ৫ হাজার ৬৫ জন অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ১৫৪ জন। বান্দরবানে ২ হাজার ৬৯২ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৯৫ জন অংশ নেয় এবং অনুপস্থিত ছিল ৯৭ জন। পরীক্ষা চলাকালে চট্টগ্রাম জেলায় একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হলেও কোনো জেলায় পরিদর্শক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে গত ৮ই জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ১১ই জুলাইয়ের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ১৬ই জুলাই পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। একই সিদ্ধান্তের আওতায় আলীম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের অবশিষ্ট পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৩শে জুলাই পরীক্ষা পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়।
