ইউরোপিয়ান ফুটবলের দলবদল বাজারে চমক। ইয়ান দিওমান্দেকে পাওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে প্রথমে নিজেদের সরিয়ে নেয় প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এর পরপরই লাইপজিগের এই আইভোরিয়ান তরুণ উইঙ্গার চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালককে দলে ভেড়াতে স্প্যানিশ জায়ান্টদের গুনতে হচ্ছে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও (প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা) বেশি।
পিএসজির সঙ্গে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলও শুরু থেকে এই আইভোরিয়ান তারকাকে পেতে দৌড়ঝাঁপ করে। গত জুনে অলরেডদের ৬৯ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় লাইপজিগ।
অন্যদিকে, গত রোববার পিএসজির দেয়া ১০২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের শেষ প্রস্তাবটিও প্রত্যাখ্যাত হয়। দর কষাকষি মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেস থেকে পিএসজি সরে দাঁড়ায়।
এক বিবৃতিতে প্যারিসের ক্লাবটি জানায়, ‘খেলোয়াড়ের ট্রান্সফার ফি এবং বেতনের দাবি ছিল একেবারেই নীতিবহির্ভূত ও অস্বাভাবিক। পিএসজি তার নিজস্ব আর্থিক শৃঙ্খলা ও দলের ভারসাম্যের নীতি ভঙ্গ করবে না।’ ক্লাবটি আরও বলে, ‘পরপর দুইবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এবং সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সফল ক্লাব হিসেবে পিএসজি কোনো খেলোয়াড় বা এজেন্টের এজেন্ট-চালিত চড়া মূল্যের খেলায় পা দেবে না।’
পিএসজির এই পিছু হটার সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগায় রিয়াল। জুড বেলিংহামের চুক্তিকে মডেল বানিয়ে দিওমান্দের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তাবলী চূড়ান্ত করেছে লস ব্লাঙ্কোরা, যেখানে পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির সুযোগ থাকছে।
বিবিসি ক্লাব সূত্রে জানতে পেরেছে, রিয়ালের প্রধান স্কাউট জুনি কালাফাত ও হোসে আনহেল গত পাঁচ বছর ধরে দিওমান্দির ওপর নজর রাখছিলেন। কোনো তাৎক্ষণিক আবেগে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আনা হচ্ছে।
জার্মান ক্লাব লাইপজিগের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্ডেসলিগার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন দিওমান্দে। গত মৌসুমে ১২ গোলের পাশাপাশি ৮টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। যদিও নিজের প্রথম বিশ্বকাপে তেমন দ্যুতি ছড়াতে পারেননি দিওমান্দে। ৪ ম্যাচের সবগুলোতেই সাকুল্যে ৩৩২ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি, অবদান মাত্র ১টি অ্যাসিস্ট। টুর্নামেন্টে ৪টি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই তরুণ তারকা।
