দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। এই সফরের আগে টাইগার শিবিরে ইনজুরির হানা। যে কারণে দলে রাখা সম্ভব হয়নি দেশেরই নয় বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম পেসারদের একজন নাহিদ রানাকে। যা নিয়ে দল ঘোষণার পরও চলছে হাহাকার। খোদ প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কণ্ঠে এই তরুণ পেসারকে না পাওয়ার আক্ষেপ। জিম্বাবুয়ে সফরের শেষ মুহূর্তে চোটে পড়ে সফর থেকেই ছিটকে গেছেন পেস সেনসেশন নাহিদ। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দল ঘোষণার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন নিজের আফসোস লুকিয়ে রাখতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানার না থাকাটা অবশ্যই অনেক বড় ধাক্কা। আমরা যখনই কোনো ক্রিকেটারকে নির্বাচন করি, শুধু রানা নয়, যে কোনো ক্রিকেটার, একটা মূল্যায়ন আমরা চাই মেডিকেল বিভাগ থেকে এবং সংশ্লিষ্ট ম্যানেজমেন্ট যারা আছেন, যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করেন ক্রিকেটারদের, তাদের কাছ থেকে। আমরা রিপোর্ট নেই, কাকে পাওয়া যাবে, কাকে নয়।’
এছাড়াও তিনি জানান পেস আক্রমণের মূল অস্ত্রকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল গঠন করাটা যে কতটা কঠিন ছিল। গুঞ্জন উঠেছে জিম্বাবুয়ে সফরে তাকে দলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও। শুধু তাই নয় প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে নাহিদের পাশাপাশি চোটের কারণে রাখা যায়রি পেসার শরিফুল ইসলাম এবং ব্যাটার লিটন দাসকেও। যা গুরুত্বপূর্ণ এ সফরে দলের জন্য বড় ধাক্কা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে ৪৪ উইকেট নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তরুণ পেসার নাহিদ। ১৯ ম্যাচে ৩৬ উইকেট নিয়ে দুইয়ে থাকা জফ্রা আর্চারকে পেছনে ফেলে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। অস্ট্রেলিয়ার গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে স্বাগতিক ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো সবচেয়ে শক্তিশালী ট্রাম্পকার্ড মনে করা হচ্ছিল ২৩ বছরের এই সেনসেশনকে। তবে জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে নেমে তিনি ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার মাঠে ফিরতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে। প্রশ্ন উঠেছে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে টি-টোয়েন্টিতে কেন খেলানো হলো তাঁকে? তবে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল স্পষ্ট করে বলেন, ‘জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজে দুটি ম্যাচ খেলেছে। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ম্যাচ খেলেছে, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যথা পেয়েছে। আমার মনে হয়, এটা দুর্ভাগ্যজনক। হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টিতে না খেলালেও পারতাম। ওয়ানডে সিরিজটি বিশ্বকাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল (সরাসরি কোয়ালিফাই করার জন্য), টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুই বছর পর, সেখানে ওকে আমরা বিরতি দিতে পারতাম।’
নাহিদের ওয়ার্কলোড ও ফিটনেস বিষয়ে বিশদ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন হাবিবুল। বর্তমানে ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং কেবল মুখে মুখে মেপে সম্পন্ন হয় না, জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করে প্রতি মুহূর্তে ডিজিটাল ডাটা ট্র্যাক করা হয়ে থাকে। একজন ফাস্ট বোলারের প্রস্তুতির জন্য রেড, ইয়োলো এবং গ্রিন জোন নির্ধারিত থাকে। অতিরিক্ত বল করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, একইভাবে কম বোলিং করলেও একজন বোলার রেড জোনে চলে যায়।
তাই আদর্শ গ্রিন জোনে থেকে বড় টেস্টের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে কোনো ম্যাচে বল করা দরকার ছিল। ফাস্ট বোলারদের আকস্মিক ইনজুরিতে পড়ার অনিশ্চিত ও কঠিন বাস্তবতার দিকে নির্দেশ করে বিসিবির প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘বোলিং করবে, অথচ চোট হবে না, এটা কঠিন। আমরা কিন্তু অনেক অনেক মেইনটেইন করছি, প্রতিটা মুহূর্ত বাড়তি যত্নও নেয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে ইতিবাচক মানসিকতার উদাহরণ টেনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকেও উদ্বুদ্ধ করতে চান বাশার। গত অ্যাশেজ সিরিজের কথা টেনে বলেন, চোটের কারণে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স কেবল ১টি টেস্ট খেলতে পেরেছিলেন এবং জশ হ্যাজেলউড ১টি ম্যাচও খেলতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে অস্ট্রেলিয়া হাহুতাশ করে বসে থাকেনি। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ এবং ইবাদত হোসেনকে নিয়ে গড়া দলের অন্য পেসারদের দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে চান প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘সেরা খেলোয়াড়কে পাবো না, সেটা নিয়ে আসলে বসে থাকতে চাই না। আমার হাতে যেটা আছে, আমি মনে করি আমার এটাই সেরা দল, এটা নিয়েই আমাদের চেষ্টা করতে হবে।’
