যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনে দ্বিধাবিভক্ত (ডিসেন্টিং) আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে বিষয়টি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন। সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মোসা. আসমা খাতুন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন মো. আসাদুজ্জামান। মামলাটি যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে বিচারাধীন ছিল। সব কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য হলেও সাত দফা রায়ের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের কর্মব্যস্ততার কারণে রায় দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানানো হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ যশোরের দায়রা জজ আদালতে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে বিচারক রাশেদুর রহমানের আদালতে সাতবার রায় পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকের আচরণও এ বিলম্বের একটি কারণ হতে পারে। শুনানি শেষে দায়রা জজ চেক ডিজঅনার মামলাটি অন্য আদালতে বদলির নির্দেশ দেন।
আইনজীবীদের দাবি, ১৩ এপ্রিল বদলির আদেশের বিষয়টি বিচারক রাশেদুর রহমানকে জানানো হলে তিনি আদেশের অনুলিপি দাখিলের নির্দেশ দেন এবং বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শুনানির সময় নির্ধারণ করেন। তবে দায়রা আদালত থেকে আদেশের অনুলিপি সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগায় তারা অনুলিপি পাওয়ার পর আদালতে উপস্থিত হন। তখন বিচারক এক আদেশে জানান, বদলির আদেশের অনুলিপি পাওয়ার আগেই তিনি মূল মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। এ ঘটনায় বিচারকের কার্যক্রম আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে করে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাসকে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করার দায়িত্ব দেন।
শুনানি শেষে আইনজীবী সৈয়দ শাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানিতে আপিল বিভাগের একাধিক রায় নজির হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাহমিদা কাদের কোনো আদেশ দেননি, অপরদিকে কনিষ্ঠ বিচারপতি আসিফ হাসান আদালত অবমাননার বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন। ফলে এটি দ্বিধাবিভক্ত (ডিসেন্টিং) আদেশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। পরে প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানির জন্য অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।
