শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্রয়ের হতাশা না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের পর সান্তোসের ড্রেসিংরুমে দলের তরুণ সতীর্থ জোয়াও আনানিয়াস এবং গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পোকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ঘটনার পরদিন মূল দলের অনুশীলন শুরুর আগে কাউকে কিছু না জানিয়ে ট্রেনিং সেন্টার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে নেইমারের বিরুদ্ধে। শনিবারের ম্যাচের পর জোয়াও আনানিয়াসের আত্মঘাতী গোল এবং গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পোর পারফরম্যান্সে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেইমার।
ও’গ্লোবোর তথ্যমতে, বন্তেম্পোকে নিয়ে কটূক্তির পাশাপাশি ডিফেন্ডার আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। বন্তেম্পোকে ‘বাজে লোক’ বলার পাশাপাশি পরের মৌসুমে তাকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে আবার খেলতে হবে বলে বিদ্রƒপ করেন নেইমার। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক বিতর্কে জড়ান সেলেসাও মহাতারকা। পরের দিন পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিত হয়েও কোচিং স্টাফের অনুমতি না নিয়ে হঠাৎ মাঠ ছেড়ে চলে যান নেইমার, যা ক্লাবকে আরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। ব্রাজিলের গণমাধ্যমের খবর, ড্রেসিংরুমের ঘটনার পর পুরো পরিস্থিতি বুঝতে ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক রোববার ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিত হন। তবে নেইমারই সেখানে খুব অল্প সময়ের জন্য ছিলেন।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যিনি এসব কথা ছড়িয়েছেন, তাকে বলছি, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। চাইলে যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা পুরো দলকে নিয়েই কথা
বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি, লুকাস, আরাও, গাবি, ব্রাজাও- আমরা সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি কিছু দাবি করেছি। কারণ, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি, আমরা জিততে চাই, সফল হতে চাই। তবে তরুণ খেলোয়াড়দের আলাদা করে ধমক দেয়া বা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা আমি মেনে নেবো না।’
উল্লেখ্য, সান্তোসে ফেরার পর এটিই নেইমারের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ নয়। গত মে মাসে সতীর্থ ফুটবলার রবসনের সঙ্গে মাঠের ভেতরে মারামারির ঘটনায় তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়। এছাড়া পোকার টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ এবং মাঠে সতীর্থদের ওপর অতিরিক্ত চটে যাওয়ার প্রবণতাও ক্লাবের ভেতরে নিয়মিত আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
