বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকে শেষ পর্যন্ত একের পর এক সমালোচনায় জর্জরিত হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ডনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার দেয়া থেকে শুরু করে ফাইনালের আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণাত্মক আচরণের পরও তাদের ‘প্রশংসাপত্র’ দিয়ে বিশ্ব জুড়ে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। তবে সেসব কানেই নিলেন না ফিফা প্রধান। উল্টো নেতৃত্ব, গভর্নিং বডি এবং বিশ্বকাপ নিয়ে ‘ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়ানোর’ বদলে সমালোচকদের ‘ধ্যান করা, প্রার্থনা করা বা কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখার’ পরামর্শ দিয়েছেন ইনফান্তিনো।
নিজের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৫টি স্লাইডের একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করার পাশাপাশি ফিফার আট মিলিয়ন ফলোয়ারদের জন্য তা রি-পোস্ট করেন ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেন ‘যারা নিজেদের কলম-কাগজ আর পর্দার আড়ালে বসে আছেন’, তাদের দিকে। ইনফান্তিনো দাবি করেন, সমালোচকরা যখন ‘ঘৃণার বীজ বপন করায় ব্যস্ত,’ তখন ফিফা উপহার দিয়েছে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আয়োজন।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই বিশ্বকাপে ছিল ‘শতভাগ নিরাপত্তা এবং কেবল আনন্দ ও সুখ।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের অংশগ্রহণকে বড় সফলতা হিসেবে উল্লেখ করে টুর্নামেন্টের নানা বিতর্ককে লঘু করে দেখছেন ইনফান্তিনো। তার দাবি, ফিফা ‘যুদ্ধরত দুটি দেশকে এক করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে’ এবং ইরান কোনো ‘ঘটনা বা সংঘাত ছাড়াই’ দেশটিতে প্রবেশ করেছে। যদিও ইনফান্তিনোর এই দাবির সঙ্গে চরম বিরোধ দেখা গেছে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোইয়ের মন্তব্যের। তিনি দাবি করেছিলেন, বিশ্বকাপে তাদের দলই ছিল ‘সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত।’ দলটিকে ভিসা পেতে বিলম্ব, গুরুত্বপূর্ণ কোচিং স্টাফের প্রবেশে বাধা, টিকিটের কোটা বাতিল এবং অ্যারিজোনার টাকসন থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে ট্রেনিং বেস সরাতে বাধ্য হওয়ার মতো সমস্যায় পড়তে হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে হাইতি, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকরাও বাধার মুখে পড়েন। এমনকি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও একক প্রবেশ ভিসা থাকার পরও সোমালি রেফারি ওমর আরতানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো লেখেন, ‘আপনারা মাত্র কয়েকজনের ভিসা অস্বীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুমোদিত লক্ষ লক্ষ মানুষকে উপেক্ষা করেছেন। কারণ ফুটবল বিশ্বকে এক করে, এবং এই গ্রীষ্মে তা দারুণভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।’ ইনফান্তিনোর দাবি, টুর্নামেন্টে ‘কোনো হিংস্রতা নয়, কেবল আনন্দ, আবেগ, সুখ, ঐক্য এবং একসঙ্গে থাকার অনুভূতি ছিল।’ তবে বাস্তবতা বলছে, ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি, জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার আইশোস্পিডের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী অপমানের অভিযোগ, একাধিক ম্যাচে সমর্থক গ্রেপ্তার এবং স্টেডিয়ামগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের বিতর্কিত উপস্থিতি নিয়ে ফিফা বর্তমানে তদন্ত করছে। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে ‘অভূপূর্ব, বোধগম্য নয় এবং অন্যায্য’ বলে বর্ণনা করলেও, ইনফান্তিনোর দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ‘বিশ্বের অন্যতম বড় লীগগুলোতে রুটিনগত ও ব্যাপকভাবে গৃহীত।’ সমালোচকদের উদ্দেশে নিজের পরামর্শ দিয়ে ফিফা প্রধান বলেন, ‘যারা আমাদের ঘৃণা করতে সময় ও শক্তি ব্যয় করছেন, দয়া করে একটু সময় নিয়ে প্রতিচ্ছবি দেখুন, ধ্যান করুন, প্রার্থনা করুন কিংবা কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখুন।’
