ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর সিএনএনের।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও গুরুতর হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা অভিযোগ করে, ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা থেকে ফিরে আসা একটি উচ্চপর্যায়ের হুতি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দিতে সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে হামলা চালায়।
তবে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানায়, ওই হামলা তাদের নিজস্ব বাহিনী চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের ওই ফ্লাইটের উদ্দেশ্য ছিল ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর পর প্রথমবারের মতো তেহরান ও সানার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা, যা বহু বছর ধরে বন্ধ ছিল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নাদওয়া আল-দাওসারি ও আরমান মাহমুদিয়ান এক বিশ্লেষণে বলেন, এই পদক্ষেপ ইরানের পরিবর্তিত আঞ্চলিক কৌশলের প্রতিফলন।
তাদের মতে, তেহরান এখন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোটকে আরও সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে সংঘাতের সময়কে নিজেদের প্রভাব বাড়ানো, মাটির বাস্তবতা বদলে দেয়া এবং আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছিল। কিন্তু বিমানবন্দর হামলার পর তারা সেই সমঝোতার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।
এরপর হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে যাওয়ার পর সৌদির তেল রপ্তানির জন্য এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে হুতিরা দাবি করেছে, তারা দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। সৌদি অন্তত একটি জাহাজে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে এবং এর জবাবে হুথি-নিয়ন্ত্রিত প্রধান বন্দরনগরী হোদেইদাহ-এ বিমান হামলা চালায়।
এদিকে সোমবার নাসা প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে সৌদির লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত জাজান তেল শোধনাগারের আশপাশ থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। এর একদিন আগেই হুতিরা ওই স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
