বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল শেষে কেটে গেছে কয়েকটা দিন। বিশ্বমঞ্চে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার ক্ষত এবং দীর্ঘ তিন বছরের নীরবতা ভেঙে অবশেষে ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির। সহকারী কোচিং স্টাফদের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন এক আবেগঘন চিঠি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অস্বস্তির কথা স্বীকার করে স্কালোনি বলেন, ‘তীব্র আবেগ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না আর অস্থিরতার মধ্য দিয়ে কেটেছে গত কয়েকদিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না, তবে দেশের মানুষের কাছে অনুভূতি পৌঁছানোর এটিই হয়তো সেরা মাধ্যম।’
আর্জেন্টিনার মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম আর কষ্টের কথা মাথায় রেখে নতুন একটি ট্রফি উপহার দিতে না পারার জন্য সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কোচ। তবে স্কোরবোর্ডের চেয়েও দলের মানসিকতা ও মূল্যবোধকে বড় করে দেখছেন তিনি। নিজের খেলোয়াড়দের ভালোবেসে ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে আপনাদের আরেকটি ট্রফি এনে দিতে পারিনি। তবে আমি চাই আপনারা মনে রাখুন আমরা কী দেখানোর চেষ্টা করেছি- আমাদের এই যোদ্ধারা, যাদের কথা আমি একান্ত সময়ে আমার স্ত্রীর কাছে বলতাম।’
বিশ্বকাপ চলাকালীন বাইরের সমালোচকদের কঠোর ভাষায় জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ। বড় হাতের অক্ষরে লেখা সেই অংশে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যে বা যারা আমাদের চেনেন না, তাদের কাছ থেকে আমাদের ঠান্ডা জলের বালতি সহ্য করতে হয়েছে।’ অর্থাৎ, টুর্নামেন্টজুড়ে নানা মহলের অযাচিত সমালোচনা ও আক্রমণকে তিনি এভাবেই সামনে নিয়ে এসেছেন।
কোচিং স্টাফ, আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) পর্দার পেছনের কর্মী এবং সমর্থক- সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী স্কালোনি। তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিষ্কার মন্তব্য না, করলেও বার্তাটি শেষ করেছেন এক দারুণ কথায়, ‘যার একজন আর্জেন্টিনিয়ান বন্ধু আছে, তার একটি অমূল্য সম্পদ আছে।’
বিশ্বকাপের এই আবেগঘন অধ্যায়টি কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য। কোচ লিওনেল স্কালোনির এই চিঠির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, জয়-পরাজয়ের চেয়েও মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়াটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের লড়াইয়ে ট্রফি হাতছাড়া হলেও বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তের মনে এই দলটি ইতিমধ্যে অমরত্ব লাভ করেছে।
