মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজের প্রথম স্বামী ওজানি নোয়া বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তার সঙ্গে বিবাহিত সম্পর্কে থাকা অবস্থায়ই র্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল জেনিফার লোপেজের। এ নিয়ে একসময় ডিডির সঙ্গে তার সরাসরি সংঘর্ষও হয়। বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওজানি বলেন, আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছিল জেনিফার। ডিডির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। আমি তাকে (ডিডি) মুখোমুখি গিয়ে বলেছিলাম, আমি তাকে ভয় পাই না। ওজানির আরও দাবি, ডিডি একসময় জেনিফারকে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং তার লস অ্যানজেলেসের বাড়িতে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচিও করেন। এতে জেনিফার নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কিউবায় জন্ম নেয়া ওজানি নোয়া ১৯৯৭ সালে জেনিফার লোপেজকে বিয়ে করেন। পরিচয়ের এক বছরের মধ্যেই তাদের বিয়ে হয়। তবে মাত্র ১১ মাসের মাথায় সেই সংসার ভেঙে যায়। ওজানির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক তারকা হওয়ার পথে জেনিফারের ব্যস্ততাই তাদের দূরে সরিয়ে দেয়। এরপর ১৯৯৯ সালে জেনিফার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিডির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ২০০১ সালে সেই সম্পর্কেরও ইতি ঘটে। সম্প্রতি ডিডির বিরুদ্ধে যৌন পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগ এবং পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে মানুষ পরিবহনের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার অতীত সম্পর্কগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় বসবাসকারী ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক ওজানি দাবি করেন, ২০০১ সালে জেনিফার যখন ডিডির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার চেষ্টা করছিলেন, তখন ডিডি তাকে এবং তার পরিবারকে হুমকি দিতেন। ওজানির ভাষ্য, জেনিফার তার এক সহকারীর জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে হঠাৎ ডিডি হাজির হন। সবাই অবাক হয়ে যায়। আমি তাকে চলে যেতে বলি। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কে। আমি তাকে বললাম, তুমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছ। তিনি বলেন, জেনিফার তাদের দু’জনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডিডি সেদিন চলে যাননি। পরে জেনিফার ডিডির গাড়িতে উঠে চলে গেলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।
ওজানির দাবি, কয়েক সপ্তাহ পর জেনিফার তাকে ফোন করে জানান, ডিডি তার বাড়ির বাইরে এসে চিৎকার করছেন। তিনি আতঙ্কিত হয়ে ওজানিকে ডেকে পাঠান। ওজানি বলেন, আমি দ্রুত সেখানে যাই। চারদিকে অন্ধকার ছিল। পরে ডিডি চিৎকার করে বলতে থাকে, সে জানে আমি ভেতরে আছি। আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াই। জেনিফার বারান্দা থেকে আমাকে থামতে বলছিল। তার দাবি, জেনিফার তাকে বলেছিলেন ডিডির কাছে অস্ত্র রয়েছে। পরে পুলিশ আসার খবর পেয়ে ডিডি সেখান থেকে পালিয়ে যান। ওজানি আরও বলেন, জেনিফার আগেও আমাকে বলেছিল, ডিডি ভয়ংকর কিছু করতে পারে। কিন্তু আমি তাকে সামনাসামনি কাপুরুষ বলেছিলাম।
ওজানির জীবনের গল্পও বেশ নাটকীয়। ১৫ বছর বয়সে তিনি কিউবা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ভেলায় করে ফ্লোরিডায় পৌঁছান। পরে মিয়ামিতে গায়িকা গ্লোরিয়া এস্তেফানের রেস্তোরাঁয় বাসন ধোয়ার কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে প্রধান ওয়েটারের দায়িত্ব পান। সেখানেই ২৭ বছর বয়সী জেনিফার লোপেজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি লস অ্যানজেলেসে চলে যান এবং জেনিফারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওজানির ভাষ্য, জেনিফারের প্রথম অ্যালবাম ‘অন দ্য ৬’ তৈরির সময় ডিডি প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হন। তখন থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, ডিডির সঙ্গে জেনিফারের পরিচয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার অনেক আগেই ছিল। তারা একসঙ্গে বেশি বেশি সময় কাটাতে শুরু করে। আমার বন্ধুরা মিয়ামির হোটেল থেকে ফোন করে বলত, তারা দু’জনকে একসঙ্গে দেখেছে।
তার দাবি, একসময় মার্কিন সাময়িকীতে একটি ছবি প্রকাশিত হয়, যেখানে মিয়ামির একটি হোটেলের সুইমিংপুলে ডিডির কোলে বসে ছিলেন জেনিফার। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। ওজানি বলেন, সত্য জানার জন্য তিনি লস অ্যানজেলেস থেকে মিয়ামিতে উড়ে গিয়ে জেনিফারের হোটেল কক্ষে অপেক্ষা করেন। পরে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বড় ধরনের ঝগড়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, সংসার ভাঙার আগমুহূর্তেও জনসমক্ষে সুখী দাম্পত্যের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ওজানির ভাষ্য, অপরা উইনফ্রের অনুষ্ঠানে জেনিফার নিজেকে ‘সুখী বিবাহিত’ বলার পরই তিনি বুঝতে পারেন, সম্পর্ক আর টিকবে না।
তার কথায়, আমরা অস্কারে একসঙ্গে গিয়েছিলাম। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর জন্য আমাকে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বাস্তবে তা ছিল না। এরপরই আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। উল্লেখ্য, এগুলো ওজানি নোয়ার ব্যক্তিগত দাবি, যা একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি করেছেন। জেনিফার লোপেজ বা শন ‘ডিডি’ কম্বস এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
