মানুষের পক্ষে যতটা অর্জন সম্ভব তার সবটুকুই পেয়েছিলেন ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

মানুষের পক্ষে যতটা অর্জন সম্ভব তার সবটুকুই পেয়েছিলেন ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র মোস্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার গত ১২ জুলাই ঢাকার শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি ২ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী বর্ষীয়ান একজন রাজনীতিবিদ ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীকে হারালো।

ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে তৎকালীন বৃটিশ ভারতের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার পিতা মৌলভী মুহাম্মদ আজিজ বক্স ছিলেন একজন জোতদার। ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ এবং পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে গমন করেন এবং বিশ্বখ‍্যাত অনারেবল সোসাইটি অব লিংকন্স ইন থেকে তিনি ব‍্যারিস্টার হন। ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট থেকে সনদ নিয়ে খোদ ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সাংবিধানিক আইন, দেওয়ানী আইন ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

মৃদুভাষী ও ঠান্ডা মাথার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। প্রথম জীবনে ছিলেন তুখোড় বামপন্থী। বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে দেশে ফেরার পর ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে তার ভাবনার জগৎ। বাম থেকে ডানে সরে আসতে আসতে স্থায়ী হোন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল বিএনপিতে। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদেই আসীন ছিলেন। বিএনপি গঠনের আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি। তার এলাকার উন্নয়নে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালে পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।

ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার পাঁচ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হোন। তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন দিনাজপুর-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

শুধু পাঁচ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন এমন নয় বরং ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বিভিন্ন সময় ছয়টি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ৬ এপ্রিল ১৯৮১ থেকে ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ সাল পর্যন্ত গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। এরপর বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় তিনি ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় ২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ২৮ আগস্ট ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ভূমিপ্রতিমন্ত্রী ও ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে ১৯ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি কিছু দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে গঠিত স্বল্পকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অষ্টম সংসদে ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ঐ সময় ২৮ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইন পেশায় সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাকে মোট পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। মুক্তিযুদ্ধও তার অবদান ছিল। ১৯৭১ সালে হাইকোর্টে আইনজীবীদের যে গ্রুপটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন তাদের অন্যতম।

ড্রেস কোড মেনে চলা ও অনুশীলন করার মূর্ত প্রতীক ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। কি শীত, কি গ্রীষ্ম, কি বর্ষা-সবসময় তিনি থ্রি পিস স্যুট পরতেন। এটাই হয়ে উঠেছিল তার স্বাতন্ত্র্যসূচক পোশাক (signature apparel)। বৈশিষ্ট্য-মণ্ডিত মানুষটি অনেক সময় মাথায় হ্যাটও পরতেন, মাঝে মধ্যে স্টাইলিস্ট ছাতা বা লাঠি সাথে রাখতেন। তার বংশনাম (surname) বাংলায় বানানে সরকার হলেও ইংরেজিতে Sircar লিখতেন। এজন্য কেউ কেউ তাকে মি. সিরকার কিংবা সারকার বলতেন। থ্রি পিস স্যুট তার ড্রেসকোডের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছিলে যে কেউ কেউ তাকে মি. থ্রি পিসও বলতেন। কথিত আছে (একজন বিচারপতি কথা প্রসঙ্গে বললেন) একবার ঈদগাহের মাঠে পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন জনৈক এক ব্যক্তি তার কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সাহেব কখন আসবেন’!

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার একজন সুলেখকও ছিলেন। তার জীবদ্দশায় ডজনখানেক গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন। তার লিখিত বইগুলো হলো-গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ; এক নজরে সংসদ সম্পর্কিত বিধিবিধান; লন্ডনে শিক্ষা জীবন; স্ট্রংগার ইউনাইটেড ন্যাশনস ফর পিসফুল ওয়েলফেয়ার ওয়ার্ল্ড; পাল রাজ থেকে পলাশী এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন; গ্লিমস অব ইন্টারন্যাশনাল ল; অষ্টম সংসদে স্পিকার; দ্য ল অব দ্য সী; ল অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল রিভারস অ্যান্ড আদার ওয়াটারকোর্রস; লন্ডনে বন্ধু-বান্ধব; লন্ডনে ছাত্র আন্দোলন; বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি প্রভৃতি।

ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে আমার বেশ কিছু মধুর স্মৃতি রয়েছে। আমি তাকে আংকেল ডাকতাম। তার জ্যেষ্ঠ ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য ব‍্যারিস্টার নাওশাদ জমির ও আমি একসঙ্গে একই দিনে ব‍্যারিস্টার হই। ১৯৯৯ সালের ২২ জুলাই সন্ধ্যায় লিংকন্স ইনে ব‍্যারিস্টার হিসেবে আমাদের কল হয় এবং আমরা সনদ লাভ করি। ওইদিন আমরা একসাথে লিংকন্স ইনে ডিনার করি এবং অনেক গল্প করি। ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তার দীর্ঘ জীবনের বিভিন্ন ঘটনা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন এবং নবীন আইনজীবী ও বিশ্বখ‍্যাত লিংকন্স ইনের সদস্য হিসেবে চমৎকার কিছু পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে প্রফেশনাল জীবনের বাঁকে বাঁকে তার দেয়া মূল্যবান পরামর্শগুলো বারংবার স্মরণ হয়।

বহুদিন ধরে আমার বন্ধু ব‍্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সঙ্গে দেখা হয়নি, ছিল না যোগাযোগ। তিনি বাংলাদেশে সফলভাবে প্র‍্যাকটিস করছেন। আমি প্র‍্যাকটিস করছি বৃটেনে। অপরদিকে, বিগত পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন লন্ডনে ছিলেন তার ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশনায় তার মরহুম শ্বশুর রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্যতম কী-নোট স্পিকার হিসেবে দাওয়াত পেতাম। গত কয়েক বছর আগে এমনি একটি অনুষ্ঠানে ব‍্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সঙ্গে হঠাৎ দেখা। অনুষ্ঠানের পর কুশল বিনিময় হল। পরদিন তিনি টেক্সট করেন এই বলে: “Assalamualaikum WRWB Nazir bhai. It was great to see you after 22 years. On our call day my father told me this and I am quoting him-‘This boy will go a long way. Watch him’. And yesterday- looking at you and coming to know of your success story immediately reminded me of his prediction”. (অর্থাৎ "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, নাজির ভাই। ২২ বছর পর আপনার সাথে দেখা হওয়াটা সত্যিই দারুণ ছিল। আমাদের সেই সাক্ষাতের দিনটিতেই বাবা আমাকে একটি কথা বলেছিলেন—আমি তার কথাই হুবহু বলছি—‘ছেলেটি অনেক দূর যাবে; ওর ওপর নজর রেখো।’ আর গতকাল—আপনাকে দেখে এবং আপনার সাফল্যের কথা জেনে—মুহূর্তেই বাবার সেই ভবিষ্যদ্বাণীর কথা আমার মনে পড়ে গেল”)।

২০১২ সালের দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছিল টক অব দ্য কান্ট্রি। ওই সময় আসন্ন নির্বাচন কি তৎকালীন দলীয় সরকারের অধীনে হবে না তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে এই আলোচনা ছিলো দেশের সর্বত্র। এমন সময় ২০১২ সালের অক্টোবরে ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার লন্ডন সফরে এলে তাকে নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল সেমিনারের আয়োজন করি। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘The need for caretaker government to hold a free, fair and credible election in Bangladesh’। আমি ওই সেমিনারের মডারেট ছিলাম, সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসানাত এম হোসেন এমবিই। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

সেমিনারে কিছু মূল্যবান কথা বলেছিলেন তিনি। সেমিনারের পর একসাথে ডিনার করি এবং লম্বা আলাপ হয়। ১৪ বছর পর আজ ভাবি-তৎকালীন সরকার যদি তার কথাগুলো বুঝতো ও মানতো তাহলে তাদের বর্তমান দশা হতো না, দেশ ছেড়ে তাদেরকে পালাতে হতো না।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পাঁচ পাঁচবার বাংলাদেশ সফর করেছি। ওই সফরগুলোতে যতবারই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি ততবারই তার সঙ্গে দেখা হয়েছে - হয় কোর্টে না হয় কোর্টের বারান্দায়। ৯৫ বছর বয়সেও এক্টিভ ছিলেন। নিয়মিত কোর্টে যেতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র মোস্ট আইনজীবী। যতবারই দেখা দেখা হয়েছে ততবারই সন্তানের মতো স্নেহমাখা মুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন কেমন আছি, লন্ডনের সবাই কেমন আছে। যতবারই কোর্টের করিডোরে দেখা হতো বলতেন, ‘নাজির কোর্টের চেম্বারে এসো, চা খেয়ে যাইও।’ প্রতিবারই বলতাম, ‘আসবো আংকেল।’ আর যাওয়া হয়নি। তার সঙ্গে এই জীবনে আর কখনও দেখা হবে না।
একজন সফল ব‍্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারকে তার জীবন ও ভাগ‍্য অনেক কিছু দিয়েছে দু'হাত ভরে অকৃপণভাবে। তিনি ছিলেন জাঁদরেল আইনজীবী। পাঁচ পাঁচ বার হয়েছেন জাতীয় সংসদের সদস্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া-দু’জনের কেবিনেটে ছিলেন তিনি। ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের কেবিনেটে। হোল্ড করেছেন ছয় ছয়টি মন্ত্রণালয়ের পোর্টফোলিও। মন্ত্রী ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার হয়েছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির। এক জনমে একজন মানুষের পক্ষে যতটা অর্জন করা সম্ভব ততোটার শীর্ষদেশ তিনি ছুঁয়েছেন।
সব মানুষকে এই ধরা ছেড়ে যেতে হবে, আজ অথবা কাল। শতাব্দীর পরিক্রমায় আমরা যারা এই ধরায় এখন আছি, তারা কেউই থাকব না। তবে কিছু মানুষ বেঁচে থাকবেন তাদের কর্মে। ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এমনই একজন মানুষ। তিনি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে তার ব‍্যতিক্রমধর্মী কর্মে। ৯৫ বছর বয়সের মৃত্যুকে অকাল মৃত্যু বলার সুযোগ নেই। তবু তার মতো একজন বর্ষীয়ান ও প্রজ্ঞাবান মানুষের মৃত্যুতে দেশ, আইনাঙ্গন, রাজনীতি ও দল যা হারালো তা সহজে পূরণ হবার নয়। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
নাজির আহমদ: বিশিষ্ট আইনজীবী, রাষ্ট্রচিন্তক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।

ই-মেইল: [email protected]

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন